রংপুর অফিস
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৫ ১৮:৩৩ পিএম
আপডেট : ২১ জুন ২০২৫ ১৮:৩৯ পিএম
রংপুরের পীরগাছায় ৪১ একর ধানক্ষেত নষ্ট করা আলোচিত এমএসবি ইটভাটা পুনরায় চালুর তোড়জোড় শুরু করেছে মালিকপক্ষ। সম্প্রতি প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ভেঙে ফেলা চিমনি ও ওয়াল আবারও নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। কৃষক ও কৃষি রক্ষায় অবিলম্বে ইটভাটা চালুর প্রক্রিয়া বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পীরগাছা উপজেলার বামন সর্দারপাড়া গ্রামে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই এমএসবি ব্রিকস দীর্ঘদিন ধরে ইট উৎপাদন করে আসছিল। ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের দেওয়া অনুমোদন থাকলেও পরে তা নবায়ন করা হয়নি। হাইকোর্টে একটি রিট মামলার মাধ্যমে অবৈধ ভাটার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। চলতি বোরো মৌসুমে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ওই এলাকার ৭৮ জন কৃষকের ৪১ একর জমির ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। কৃষি অধিদপ্তর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করলেও মালিক মমিনুল ইসলাম তা প্রদান না করে একাধিকবার সময়ক্ষেপণ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কৃষকরা গত ৪ মে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেন এবং ভাটা উচ্ছেদের দাবি জানান। পরবর্তীতে গত ১৯ মে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে ভাটাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে মাত্র এক মাসের মাথায় ভাটার চিমনি ও ওয়াল নির্মাণের কাজ পুনরায় শুরু করেছে মালিকপক্ষ। কিন্তু নেয়া হয়নি কোনো অনুমতি কিংবা পরিবেশ ছাড়পত্র।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বিএনপি-সমর্থিত ভাটা মালিক মমিনুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আবারও ভাটা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অথচ এতে নতুন করে কৃষিজমি হুমকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। ইটভাটা চালু হলে আমরা ফসল তুলতে পারব না। ভাটার মালিক ক্ষমতাবলে আইন-আদালত কিছুই মানছেন না।
ইটভাটার ম্যানেজার মোনা চন্দ্র বর্মন বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। কীভাবে নির্মাণ হচ্ছে মালিক জানেন। আপনারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ইটভাটার মালিক মমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করার পর সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন। কয়েকবার কল দিয়ে চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হক সুমন বলেন, ইটভাটার চিমনি পুনর্নির্মাণের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। কৃষকরা আমার অফিসে এসে অভিযোগ দিয়েছে। সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।