× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মেশিন অচলে হয়রানির শিকার ব্যবসায়ীরা

মহসিন আলী, বেনাপোল (যশোর)

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৫ ১০:৩১ এএম

মেশিন অচলে হয়রানির শিকার ব্যবসায়ীরা

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কেমিক্যাল ল্যাবের স্পেকট্রোফটোমিটার মেশিনটি এক বছরের বেশি সময় ধরে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে আমদানি করা পণ্যের কেমিক্যাল মান যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে শিল্পের কেমিক্যাল জাতীয় কাঁচামাল খালাস করতে দেরি হচ্ছে। পণ্য ডেলিভারিতে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, এলসির তথ্য অনুযায়ী কোনো পণ্যে বিষাক্ত বা ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে কি না তা যাচাইয়ে ল্যাবের এই যন্ত্রটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে থাকলেও সচল করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের গরজ নেই।

বেনাপোল কাস্টমস ল্যাবের জন্য বরাদ্দ হওয়া দুটি যন্ত্রের মধ্যে একটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এতে পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠাতে হচ্ছে চট্টগ্রাম বা ঢাকায়। এ কারণে সময় ও অর্থ দুটিই নষ্ট হচ্ছে।

আমদানিকারকরা বলছেন, পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠাতে গিয়ে দেরি হচ্ছে এবং অতিরিক্ত খরচও গুনতে হয়। ফলে বন্দর এলাকায় বাড়ছে পণ্যজট। ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কেমিক্যাল বিশেষজ্ঞ তপন কুমার বলেন, ‘কেমিক্যাল পণ্যের শ্রেণিভুক্তি যদি দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে, তাহলে শিল্পে কাঁচামালের ঘাটতি হবে। এ কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। বাজারে পণ্য দ্রব্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী হবে। তেল, সাবান, কসমেটিকস, খাদ্যশিল্পসহ অসংখ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান এই কেমিক্যালের ওপর নির্ভরশীল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমদানি খাতে জটিলতা তৈরি হলে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে দেশের শিল্পে। এর বিরূপ প্রভাব সাধারণ ভোক্তারা এড়াতে পারে না। বিষয়টি একাধিকবার কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে।’

বেনাপোল আমদানি রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, ‘এনবিআরের একটি নির্দিষ্ট টেকনিকেল কমিটি আছে। তারা কেমিক্যাল শ্রেণিভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। কিন্তু বেনাপোল কাস্টমস হাউস থেকে বারবার অনুরোধের পরও কমিটির সভা হচ্ছে না। ফলে মেশিনটি মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। বাড়ছে ব্যবসায়ীদের হয়রানির মাত্রা।’ 

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমরা কাস্টমসকে বহুবার অনুরোধ করেছি মেশিনটি সচল করে তোলার জন্য। কিন্তু এক বছরেও আমাদের কথা কানে তোলেনি। আমরা সরকারকে রাজস্ব দিচ্ছি। দেশের শিল্প বাঁচাতে কাজ করছি। অথচ আমরাই বাধার মুখে। দেশের আমদানি হওয়া মোট পণ্যের প্রায় ৪০ শতাংশই কেমিক্যাল জাতীয় পণ্য বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়ে থাকে। এগুলো ছাড়া শিল্প খাতে উৎপাদন অসম্ভব।’

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ল্যাবের স্পেকট্রোফটোমিটার মেশিনটি মেরামতের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দিয়েছি। আশা করি মেশিনটি দ্রুত মেরামত করা যাবে। উল্লেখ্য, বেনাপোল বন্দরের কেমিক্যাল ল্যাবে প্রতিদিন গড়ে ২৫টি নমুনা পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে অধিকাংশই শিল্প পণ্য।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা