বেনাপোল
বেনাপোল (যশোর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৫ ২১:২৫ পিএম
আপডেট : ১৬ জুন ২০২৫ ২১:৪৩ পিএম
যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার রঘুনাথপুর গ্রামে এক দম্পতির রহস্যজনক মৃত্যুর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এতে হতাশা বাড়ছে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে। তবে রহস্য উদঘাটনে পুলিশের পাশাপাশি পিবিআইয়ের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।
নিহত দম্পতির নামÑ মনিরুজ্জামান (৫৫) ও তার স্ত্রী রেহানা বেগম (৫০)। তারা বেনাপোল পোর্ট থানার রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ও পুত্রবধূ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, শনিবার (১৪ জুন) সকালে মনিরুজ্জামানের মরদেহ বাড়ির উঠানের পাশে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং তার স্ত্রীর মরদেহ বাড়ির পাশের মাঠে পড়ে থাকতে দেখা যায়। উভয়ের শরীরে ক্ষতচিহ্ন ছিল এবং দেহ দুটি বাইরে টেনে হেঁচড়ে আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মনিরুজ্জামানের মরদেহটি হাঁটু গেড়ে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল, যা আত্মহত্যার ধরনে পড়ে না বলে প্রাথমিকভাবে মন্তব্য করেছেন পুলিশ ও স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এলাকায় ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছেÑ এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা। তবে পরিবারের সদস্যদের দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
নিহত দম্পতির মেয়ে মনিরা ও ছেলে মাসুদ দাবি করেছেন, আমাদের বাবা-মাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আত্মহত্যার কোনো আলামত নেই। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। এ ঘটনায় তিন দিন পার হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
স্থানীয়রা বলছে, ওই দম্পতির মধ্যে পারিবারিক কলহ ছিল। কিন্তু তা আত্মহত্যার পর্যায়ে নয়। পুলিশ দ্রুত এ ঘটনার দ্রুত রহস্য উদঘাটন করুক।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল মিয়া বলেন, সীমান্তবর্তী রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে মনিরুজ্জামান-রেহানা দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যাÑ তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে পুলিশ গুরুত্বসহকারে বিষয়টি তদন্ত করছে। পিবিআইসহ একাধিক তদন্ত সংস্থা কাজ করছে। শিগগিরই প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে।