জামালপুরে সমাজচ্যুতি
জামালপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৫ ২১:০৬ পিএম
আপডেট : ১৬ জুন ২০২৫ ২১:১৩ পিএম
জামালপুর শহরের দাপুনিয়া পশ্চিম পাড়ায় ঢাকঢোল পিটিয়ে ও মাইকিং করে সাতটি পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ঘটনার দুদিন পর নতুন করে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার (১৫ জুন) রাতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই বৈঠকে অভিযুক্তরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। একই সঙ্গে আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে এলাকাবাসীর সামনে সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অঙ্গীকার করতে দেখা যায়।
এর আগে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী মাতব্বর সাতটি পরিবারকে সমাজচ্যুত করে ‘একঘরে’ করার ঘোষণা দেন। মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কেউ মেলামেশা, লেনদেন কিংবা সামাজিক সম্পর্ক রাখতে পারবেন না। এমনকি কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলেও তাকেও একঘরে করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা গত রবিবার বিকালে জামালপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এরপরই পুলিশ প্রশাসন তৎপর হয়।
এরপর গত রবিবার রাত ১০টার দিকে এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিবর্গের উদ্যোগে আবারও বসে সালিশি বৈঠক। সেখানে আছির উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মানিক, রঞ্জু মিয়া ও দিদার হোসেনসহ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অভিযুক্তরা সভায় প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে, তারা একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা একঘরে করে রাখা সাত পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন।
পরে মাইকিং করে আগের ঘোষণার ‘ভুল’ সংশোধন করে জানানো হয়, সাত পরিবারের বিরুদ্ধে নেওয়া সমাজচ্যুতির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, রবিবার রাতেই গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় দুপক্ষের সমঝোতা হয়। উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অঙ্গীকার করেছেন। অভিযোগকারীরাও তাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন।
উল্লেখ্য, একপক্ষের দাবি, মুনসুর মিয়ার পরিবারের সঙ্গে একটি পারিবারিক বিরোধের জেরে সালিশ বসিয়ে একতরফাভাবে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার পরিবারসহ আরও ছয়টি পরিবারকে সমাজচ্যুত করে একঘরে করার ঘোষণা দেওয়া হয়।