হত্যা মামলায় অভিযুক্ত
বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৫ ২০:৫৬ পিএম
আপডেট : ১৫ জুন ২০২৫ ২০:৫৭ পিএম
বগুড়ায় কিশোরী মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় শাকিল আহম্মেদ (৪৫) নামে এক অটোরিকশা চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর শনিবার রাতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যাদের মধ্যে রয়েছেন দলের জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক জিতু ইসলাম।
ইতিমধ্যে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে গ্রেপ্তার তিনজনকে রবিবার (১৫ জুন) ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জিতু ইসলামকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জিতু ইসলামকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সরকার মুকুল বলেন, ‘জিতু আমাদের জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠায় তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
এর আগে গত শনিবার বিকালে বগুড়ার ফুলবাড়ি এলাকার করতোয়া নদীর পাড়ে নয়াঘাট এলাকায় মারধরের শিকার হন শাকিল আহম্মেদ। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাত ১০টার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন—বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক জিতু ইসলাম (৪৩), তার সহযোগী শফিকুল হাসান বিপ্লব (২৮) এবং মতিউর রহমান মতি (৩০)। বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত শাকিল আহম্মেদ শহরের শিববাড়ি শাহী মসজিদ লেনের মৃত হানিফের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে একই এলাকার রানা নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই এলাকার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জিতু ইসলাম শাকিলের কিশোরী মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এতে শাকিল রাজি না হওয়ায় জিতুর সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনার দিন দুপুরে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয় এবং শাকিলের ছুরিকাঘাতে জিতুর হাতে আঘাত লাগে। পরে বিকেলে জিতু ও তার সহযোগীরা শাকিলকে ধরে নিয়ে যান এবং নয়াঘাট এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাকে মারধর করেন।
বগুড়া ফুলবাড়ী ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) জোবায়েদ খান জানান, এ ঘটনায় শাকিল আহম্মেদের স্ত্রী সালেহা বেগম বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮–১০ জনকে আসামি করে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেছেন। এখন পর্যন্ত মামলার প্রধান আসামী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জিতু ইসলামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে রবিবার আদালতে পাঠানো হলে আদালত তার ৫দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন। এ মামলার অন্যা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।