চরফ্যাশন
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৫ ১৯:৪৬ পিএম
আপডেট : ১৫ জুন ২০২৫ ১৯:৫২ পিএম
ভোলার চরফ্যাশনের নজরুল নগর ইউনিয়নের শারেক খালি গ্রামে অবস্থিত দর্শনীয় খামারবাড়ি রিসোর্টটি দীর্ঘ ১১ মাস ধরে বন্ধ থাকায় হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা। এ অবস্থায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন রিসোর্টটির প্রায় ৬০ জন কর্মচারী এবং আশপাশের ব্যবসা সংশ্লিষ্ট ৬০ জনেরও বেশি ব্যবসায়ী চরম আর্থিক সংকটে দিন পার করছেন। চরফ্যাশনসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বিমুখ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
২০০৯ সালে চালু হওয়া এই রিসোর্টটি বর্তমানে ৫০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন স্থাপনা, কটেজ, দেশি ও বিদেশি খাবারের রেস্টুরেন্ট, কনফারেন্স রুম, বাংলো বাড়ি, ২টি সুইমিংপুল, সুউচ্চ আধুনিক কিল্লা, কৃত্রিম ঝরনা, ২৩টি কটেজ, ২টি মিনি হ্যালিপেডসহ অত্যাধুনিক অবকাঠামো নিয়ে গড়ে ওঠা এ রিসোর্টটি একসময় চরফ্যাশনের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ ছিল।
গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে রিসোর্টটি বন্ধ রয়েছে। ঈদুল আজহার পর থেকে চরফ্যাশন জ্যাকব টাওয়ার, শিশু ও বিনোদন পার্ক, ফ্যাশন স্কয়ার, বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক, চরকুকরি-মুকরি, ঢালচরের তারুয়া, খেজুরগাছিয়া, মায়াব্রিজসহ বিভিন্ন স্পট দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। শুধু বন্ধ ছিল খামারবাড়ি রিসোর্টটি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দর্শনার্থীরা এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। গেটে ঝুলছে তালা, টিকিট কাউন্টার ফাঁকা, আর সামনে বড় করে লেখা রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সাময়িক বন্ধÑ তবে এ ‘সাময়িক’ বন্ধে শেষ কবে খুলবে তা কেউ জানে না।
চরফ্যাশনের ওসমানগঞ্জ ইউনিয়ন থেকে আসা পর্যটক পারভেজ বলেন, খামারবাড়ি রিসোর্টটি বন্ধ আছে, এটা জানতাম না। জানলে আসতাম না, এখন এসে ফিরে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মফেল গাজী বলেন, রিসোর্ট চালু থাকা অবস্থায় প্রতিদিন শত শত পর্যটক আসতেন। আশপাশের অনেক মানুষ এই কেন্দ্রিক ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রায় ১১ মাস ধরে রিসোর্টটি বন্ধ থাকায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এখন অনেকেই বেকার, কেউ পেশা বদল করেছেন। কবে চালু হবে তা কেউ বলতে পারছেন না। এই এলাকার অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফেরাতে অতি দ্রুত পর্যটন কেন্দ্রটি খুলে দিতে সংশ্লিষ্টের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
খামারবাড়ির এক কর্মচারী সালাউদ্দিন জানান, ৬০ জন কর্মচারীর মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৭ জন আছেন, বাকিরা বেকার বা অন্য পেশায় চলে গেছেন। আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি।
রিসোর্টের ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে রিসোর্টটিতে ৭ জন কর্মচারী দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলছে। বাকি কর্মচারীরা বেকার হয়ে পড়ছেন। মালিকপক্ষের সিদ্ধান্ত না আসায় আমরা খুলতে পারছি না। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে খোলার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চরফ্যাশন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন বলেন, রিসোর্টটি খোলার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।