× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভিড়ের চাপে ছাদ-ইঞ্জিনে

মহসিন রেজা রুমেল, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর)

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৫ ১০:৪১ এএম

দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রেলপথে ঈদের সময় যাত্রীচাপে ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে ভ্রমণ এখন যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রেলপথে ঈদের সময় যাত্রীচাপে ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে ভ্রমণ এখন যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রেলপথে ঈদের সময় যাত্রীচাপে ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে ভ্রমণ এখন যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর নানা প্রচেষ্টা, মাইকিং ও উপস্থিতি থাকলেও তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। দেওয়ানগঞ্জ বাজার রেলওয়ে স্টেশনটি প্রারম্ভিক স্টেশন হওয়ায় এ স্টেশনে দীর্ঘসময় ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকে আর এ সুযোগে সহজেই ট্রেনের ছাদে উঠছেন যাত্রীরা। ঢাকাগামী ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ে অনেকে বাধ্য হয়ে ছাদ বা ইঞ্জিনে উঠে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রওনা হচ্ছেন রাজধানীর পথে। ঈদের সময় এ চিত্র আরও প্রকট হয়ে ওঠে, যাত্রীদের অসচেতনতা এবং সীমিত জনবলের কারণে কর্তৃপক্ষের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

গতকাল শনিবার সরেজমিন দেওয়ানগঞ্জ বাজার রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের সপ্তম দিন অতিবাহিত হলেও এখনও স্টেশনে ঢাকাগামী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। কামড়ায় জায়গা না পেয়ে অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকাগামী কমিউটার ট্রেনের ছাদে উঠছেন। এমনকি ছোট শিশুদের কোলে নিয়েও ছাদে উঠতে দেখা গেছে অনেক নারী যাত্রীকে। এ সময় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও রেল পুলিশের তৎপরতা থাকলেও তাতে কাজ হচ্ছে না। ছাদ ছাড়াও ট্রেনের ইঞ্জিন, দুই বগির সংযোগ স্থলে বসে যাত্রা করতে দেখা যায় অনেককে।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের যাত্রী আলমগীর মিয়া বলেন, ট্রেনে প্রচণ্ড ভিড়, তবুও ঢাকায় যেতেই হবে। কামরার ভেতরে অসহ্য গরম, তাই ছাদে উঠেছি, যদিও জানি এটা নিষেধ।

চুনিয়াপাড়া এলাকার গার্মেন্টস কর্মী সালমান জানান, ‘কাল থেকে কারখানা খুলবে। নিচে জায়গা ছিল না, বাধ্য হয়ে ছাদে উঠেছি। নিচে জায়গা পেলে কখনই ছাদে উঠতাম না।’

স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রেলপথে প্রতিদিন তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নামে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। ব্রহ্মপুত্র প্রতিদিন ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে এবং তিস্তা দুপুর ৩টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এ ছাড়া কমিউটার নামে দুটি ট্রেন চলাচল করে। ঈদের সময় এসব ট্রেনের পাশাপাশি একটি ঈদ স্পেশাল ট্রেনও চলাচল করে আট দিন ধরে। তারপরও যাত্রীচাপ কিছুতেই কমছে না।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ সাইদুর রহমান জানান, ‘ঈদের সময় যাত্রীচাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এ ছাড়া যাত্রীদের ছাদে উঠা ঠেকাতে আরএনবি সদস্যরা তৎপর থাকে। তারপরও যাত্রীরা অগোচরে ছাদে, ইঞ্জিনে উঠে পড়ে। আমাদের মাত্র ২২ জন সদস্য দিয়ে হাজারো যাত্রীর ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও আমরা নিয়মিত মাইকিং করছি এবং ছাদে উঠা যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছি।’

রেল পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ (আইসি) সোহেল রানা বলেন, প্লাটফর্মে ২৪ ঘণ্টা রেল পুলিশ মোতায়েন থাকে। যাত্রীদের ট্রেনের ছাদে ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করে প্রতিদিনই মাইকিং করা হচ্ছে। অনেক যাত্রীকে নামিয়ে আনা হলেও, কিছুক্ষণের মধ্যে তারা আবার অন্য প্রান্ত দিয়ে উঠে পড়ছেন। ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণে যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে।

দেওয়ানগঞ্জ রেল স্টেশনমাস্টার আব্দুল বাতেন বলেন, এ স্টেশন থেকে দেওয়ানগঞ্জ ছাড়াও পাশ্ববর্তী বকশীগঞ্জ উপজেলাসহ কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর, রৌমারী, গাইবান্ধা জেলার বালাসী, ফুলছরির অনেক যাত্রী ট্রেন ধরে ঢাকা যাতায়াত করে। রাস্তাঘাট অনুপযোগী হওয়ায় তারা রেলে নির্ভরশীল। ঈদের সময় এ রুটে যাত্রীর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে তিনগুণেরও বেশি হয়।

তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এই ভ্রমণের কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনায় প্রাণহানিও ঘটে। রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সচেতন করতে বারবার প্রচার চালালেও তাতে খুব একটা কাজ হচ্ছে না।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা