শাহিনুর সুজন, চারঘাট (রাজশাহী)
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৫ ১০:৩৯ এএম
রাজশাহী অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, সম্প্রতি তাকে সরদহ সরকারি মহাবিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ হিসেবে পুনঃনিয়োগ দেওয়া নিয়ে চারঘাট উপজেলায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
এই নিয়োগ ঘিরে রাজনীতিক, শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
২০২২ সালের শেষ দিকে ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে এমপিওভুক্তি, পদোন্নতি ও উচ্চতর স্কেল দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি যোগ্যতা বিবেচনা না করে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করেন। এ ছাড়া অধীনস্থ কর্মকর্তাদের প্রতি অসদাচরণ ও দপ্তরের অভ্যন্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার ছিল নিয়মিত ঘটনা।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে। একই সময়ে সহকারী পরিচালক আবু রেজা আজাদকেও একই অভিযোগে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
রাজশাহীর শিক্ষক সমাজ এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হয়। ২০২২ সালের নভেম্বরে তারা রাজপথে নেমে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। তারা ড. কামাল হোসেন ও আবু রেজা আজাদের অপসারণ এবং বিভাগীয় শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হন।
জানা গেছে, ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রধান তিনটি অভিযোগ রয়েছে। তা হলোÑ ১. এমপিও দুর্নীতি : অর্থের বিনিময়ে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তি। ২. পদোন্নতি ও স্কেল দুর্নীতি : বিধি লঙ্ঘন করে প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের পদোন্নতি ও উচ্চতর স্কেল প্রদান। ৩. ক্ষমতার অপব্যবহার : অধীনস্থদের প্রতি অসদাচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপমানজনক আচরণ।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ ‘আংশিক সত্য’ বলে প্রমাণিত হয়। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, ড. কামাল নিয়ম লঙ্ঘন করে একাধিক এমপিও অনুমোদন এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেছেন।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও গত বছরের জুলাই-আগস্টে তাকে সরদহ সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে পুনঃনিয়োগ দেওয়া হয়। এতে চারঘাট উপজেলায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই তিনি শিক্ষা প্রশাসনে পুনরায় ফিরেছেন।
সুশীল সমাজ ও অভিভাবক মহলের দাবি, এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে বসানো হলে শিক্ষার আদর্শ ও মূল্যবোধ প্রশ্নের মুখে পড়বে।
অধ্যাপক ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি এখনও ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় রয়েছি। ২৪ মে আমি সরদহ সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিয়েছি। তবে আমার এই যোগদান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কোনো ক্ষোভ রয়েছে কি না, সেটা আমি জানি না।