জহুরুল ইসলাম জহির, গৌরনদী (বরিশাল)
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৫ ১০:৩৫ এএম
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নবনির্মিত একটি কার্পেটিং সড়ক উদ্বোধনের আগেই ধসে পুকুরে পড়েছে।
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নবনির্মিত একটি কার্পেটিং সড়ক উদ্বোধনের আগেই ধসে পুকুরে পড়ে যাওয়ায় চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, পাইলিং ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা উপেক্ষা করে কাজ করায় সড়কটি নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ে। এতে শাওড়া, উত্তর বিজয়পুর ও দক্ষিণ বিজয়পুর মহল্লার কয়েক হাজার মানুষ চলাচলে অসুবিধার মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গৌরনদী পৌরসভা শাওড়া মহল্লার ফারুক ঠাকুরবাড়ির দক্ষিণ পাশ থেকে সন্যামাত বাড়ি হয়ে কবির মৃধার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সড়ক কার্পেটিংকরণ প্রকল্প গ্রহণ করে। টেন্ডারের মাধ্যমে ‘মেসার্স দেলোয়ার কনস্ট্রাকশন’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ঠিকাদার মো. আলাউদ্দিন ভূইয়া গত মার্চ মাসে কাজ শুরু করেন এবং সম্প্রতি নির্মাণ শেষ করেন। তবে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের মৃধা ভবনের সামনের অংশে ফাটল দেখা দেয় এবং গত বৃহস্পতিবার বড় একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ধসে পড়ে পুকুরে ধসে পড়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সড়কের বিটুমিন (পিচ) আস্তে আস্তে সরে গিয়ে পুকুরে নেমে গেছে। রাস্তার পাশে নির্মিত পাইলিং ও সীমানা সুরক্ষা দেয়াল ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের, যা সামান্য বৃষ্টি ও পুকুরের পানি সেচের পরেই ধসে পড়ে। ভাঙনের কারণে এখন কোনো যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, মানুষ চলাচলেই পুকুরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাব্বির আকন অভিযোগ করেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছে। সড়কের পাশের ডোবার যথাযথ প্যালাসাইডিং না করেই কাজ করেছে। সঠিকভাবে মাটি ভরাট বা গভীর পাইলিং না করে কাজ করায় আজ রাস্তা ধসে পড়েছে। ঠিকাদার যদি সঠিকভাবে পাইলিং ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়ে প্রাক্কলন ও ডিজাইন অনুযায়ী কাজ করতেন তাহলে সড়কটি নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগে এ ঘটনা ঘটত না।’
একই অভিযোগ করেন আরও অনেক সুবিধাভোগী। তারা জানান, এ সড়কটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে শাওড়া, উত্তর বিজয়পুর ও দক্ষিণ বিজয়পুর মহল্লার প্রতিদিন ৩-৪ হাজার মানুষ, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্যবাহী যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করত। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় এখন সাধারণ মানুষ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে।
তবে স্থানীয়রা বিষয়টিকে শুধু প্রাকৃতিক কারণে ঘটেছে বলে মানতে নারাজ। তাদের দাবি সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং দ্রুত নতুন করে টেকসই রাস্তা নির্মাণ করে জনগণের চলাচল নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার আলাউদ্দিন ভূইয়ার পক্ষে প্রকল্প তদারককারী মো. রাশেদুজ্জামান ঝিলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘অত্যধিক বৃষ্টিপাত ও পুকুরে পানি সেচ দেওয়ার কারণে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, পুকুরের পানি সেচের কারণে রাস্তার পাশের মাটি সরে গিয়ে সড়কটি দেবে গেছে। ঠিকাদারকে পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা সড়কটি পুনরায় মেরামত করে দেবেন।