পটুয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৫ ২১:০৯ পিএম
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৫ ২১:২৪ পিএম
পটয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড চারাবুনিয়া গ্রামে দাদি কুলসুম বিবি (৯৫) এবং সৎ মা শাহিদা বেগমকে (৩৯) দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে আল আমিন নামে মাদ্রাসায় পড়ুয়া মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবক। হত্যায় ব্যবহার করা দা বাড়ির পাশে ফেলে ঘাতক পালিয়েছে।
শুক্রবার (১৩ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে এই হত্যার ঘটনা ঘটে।
বাড়ির লোকজন ও এলাকাবাসী জানান, চারাবুনিয়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে ঘাতক আল আমিন প্রথমে হাফেজি পড়তেন। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় তাকে ভর্তি করানো হয়। সেখানে পড়াশোনার একপর্যায়ে সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে অভিভাবকরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
বাড়িতে চলে এলে আল অমিন বুকের সঙ্গে কুরআন শরিফ বেঁধে এলাকায় ঘুরে বেড়াত। এ ছাড়াও কিছুদিন ধরে তার কথাবার্তা ও চালচলনে অসংলগ্ন দেখা দেওয়ায় তাকে সুচিকিৎসার জন্য পাবনা মানসিক চিকিৎসা হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।
এজন্য গতকাল তার ভাই স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে যান। এ ছাড়াও বাড়ির অন্য পুরুষরা মসজিদে যান জুমার নামাজ পড়তে।
এই ফাঁকে আল আমিন ঘরে ঢুকে দা দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে মাথা ও গলায় কুপিয়ে প্রথমে সৎ মা শাহিদা বেগম এবং পরে উঠানে বসে থাকা দাদি কুলসুম বিবিকে হত্যা করেন। তাদের আর্তনাদে পাশের ঘরের চাচি এগিয়ে এলে তাকেও হত্যার চেষ্টা করলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান।
দুজনের এ হত্যার ঘটনা দেখে বাড়ির অন্য সব মহিলা ও শিশুরা চিৎকার শুরু করেন। এতে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। হত্যাকাণ্ডের খবর যায় পুলিশের কানে। পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।
পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি হত্যার বিস্তারিত শোনেন। পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। তবে নিহতদের পরিবার ময়নাতদন্ত না করার অনুরোধ জানিয়েছে। পুলিশ ঘাতক আল আমিনকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছে।