প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৫ ১৬:১৯ পিএম
আপডেট : ১২ জুন ২০২৫ ১৬:৪৮ পিএম
ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে তীব্র গরম উপেক্ষা করে প্রকৃতির শীতল ছোঁয়া নিতে দেশজুড়ে ছুটে চলেছে ভ্রমণপিপাসুরা। পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠেছে খাগড়াছড়ির তেরাং তৈ কালাই ঝরনা ও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিদিনের বাংলাদেশের প্রতিবেদকদের পাঠানো প্রতিবেদনেÑ
খাগড়াছড়ি : সারা দেশে যখন তাপমাত্রার রেকর্ড ছুঁই ছুঁই, তখন প্রকৃতির কোলে একটু প্রশান্তি খুঁজে নিতে হাজারো মানুষ ছুটে আসছেন খাগড়াছড়ির আলুটিলার তেরাং তৈ কালাই ঝরনাতে। ঈদের ছুটিতে যা হয়ে উঠেছে পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্যে। ঘন জঙ্গলের বুক চিরে নেমে আসা শীতল ঝরনা ধারার নিচে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির নির্মল প্রশান্তি নিচ্ছেন পরিবার, বন্ধু ও একাকী ভ্রমণপিপাসুরা।
প্রতিদিন শত শত পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠছে তেরাং তৈ কালাই ঝরনা, যা পূর্বের রিছাৎ ঝরনা নামে পরিচিত ছিল। ত্রিপুরা অধ্যুষিত এলাকায় হওয়ায় পরবর্তীতে তেরাং তৈ কালাই নামে নামকরণ করা হয়েছে। এই ঝরনায় বিশেষ করে ঈদের ছুটিতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। এ ছাড়া ছুটির দিনে পর্যটকদের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় দোকানপাটেও বেড়েছে ব্যস্ততা, পর্যটকদের জন্য বিক্রি হচ্ছে পাহাড়ি ফল, নাশতা ও নানা হস্তশিল্প।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক শাওন বলেন, প্রথমবার এসেছি। ঝরনার ঠান্ডা পানির ছোঁয়ায় শহরের কোলাহল ভুলে নতুন এক দুনিয়ায় চলে এসেছি মনে হচ্ছে।
এই ঝরনাটি শুধু তার মনোমুগ্ধকর রূপেই নয়, স্থানীয় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর কাছে এটি একটি সাংস্কৃতিক নিদর্শন হিসেবেও পরিচিত। নামটির পেছনে রয়েছে একটি লোককথা— ‘তেরাং তৈ’ মানে ত্রিপুরা ভাষায় ‘পাথরের নিচ দিয়ে’, আর ‘কালাই’ অর্থ পানিÑ এ যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক কাব্যিক নাম।
তবে এই জায়গার জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে বর্জ্য সমস্যা। পলিথিন, প্লাস্টিক বোতলসহ নানা বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে ঝরনার স্বাভাবিক পরিবেশ। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীরা পর্যটকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে দর্শনার্থীদের ঢল দেখা গেছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, ক্যামেলীয়া লেক, হামহাম জলপ্রপাতসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে। পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা পর্যটকরা ইকো-ট্যুরিস্ট গাইডদের সহায়তায় ঘুরে ঘুরে প্রকৃতির রূপে বিমোহিত হচ্ছেন। আর দল বেঁধে আসা লোকজন আনন্দ-উল্লাসে ছবির স্মৃতির ফ্রেমবন্দি হচ্ছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তায় তৎপরতায় ছিল টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা। বনের ভেতর এবং বাহিরে সব জায়গায় টুরিস্ট পুলিশ ছাড়াও বন বিভাগ, চা বাগানের লোকজন ও পুলিশের অবস্থান ছিল।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তথ্যমতে গত বছরের তুলনায় এ বছর ঈদের দিন পর্যটকের সংখ্যা কম থাকলেও ঈদের পরদিন থেকে পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক রায়হান বলেন, তীব্র গরমের মধ্যে শান্তির খোঁজে লাউয়াছড়ায় এসেছি। এখানকার ঠান্ডা পরিবেশ সত্যিই অসাধারণ। তাই গরম তেমন একটা অনুভূত হয়নি।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক ও বিভিন্ন চা বাগান ঘুরে দেখা গেছে, সব স্থানেই পর্যটকদের বহনকারী গাড়ির দীর্ঘ সারি। লাউয়াছড়া উদ্যানের টিকিট কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন। সবাই নির্ধারিত মূল্যে টিকিট নিয়েই ভেতরে ঢুকে ঘোরাফেরা করছেন। অনেকে দল বেঁধে ঘুরছেন, ছবি তুলছেন। দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, ঈদের টানা ছুটিতে প্রচুর পর্যটক লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। আগত পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে বন ঘুরে দেখতে পারেন সেজন্য বনকর্মীদের পাশাপাশি, সিএমসির সদস্যদের তদারকি, সিপিজির সদস্য ট্যুরিস্ট গাইডরা রয়েছেন। এ ছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি কমলগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম দায়িত্ব পালন করছেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের অফিসার ইনচার্জ কামরুল হাসান চৌধুরী বলেন, ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে লক্ষ্যে ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে।