× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চট্টগ্রাম বন্দরে কমেছে কন্টেইনার ডেলিভারি, বেড়েছে জট

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৫ ১৫:৩৬ পিএম

আপডেট : ১২ জুন ২০২৫ ১৫:৪৩ পিএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

ঈদের ছুটিতে গত ৯ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫টিতে। এর মধ্যে কন্টেইনার জাহাজই ২৪টি। এর আগে গত ৪ জুন চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আমদানি পণ্য খালাসের জন্য অপেক্ষায় ছিল ১৭টি কন্টেইনার জাহাজ। একই সময় স্ক্র্যাপসহ অন্যান্য আমদানি পণ্য নিয়ে অপেক্ষায় ছিল আরও ৯টি জাহাজ। স্বাভাবিক সময়ে এভাবে কন্টেইনারসহ বিভিন্ন ধরনের ২৫ থেকে ২৬টি জাহাজ বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ থাকলেও ঈদের ছুটিতে এ সংখ্যা বেড়েছে। 

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, ছুটিতে জাহাজ থেকে আমদানি পণ্য খালাস এবং বন্দর থেকে রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ কমে যাওয়াতেই বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা বেড়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের পোর্ট পারফরমেন্স রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুন বন্দরের ১২টি কন্টেইনার জেটির মধ্যে মাত্র ৫টি জেটিতে থাকা কন্টেইনার জাহাজে কাজ হয়েছে। ওই দিন বন্দর থেকে মাত্র ১৩১ কন্টেইনার জাহাজীকরণ হয়। অন্যদিকে একই সময়ে জাহাজ থেকে আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার খালাস হয়েছে মাত্র ৩০৮টি। 

এদিকে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কমে যাওয়ায় বন্দরের বহির্নোঙরে ওয়ার্কেবল অপেক্ষমাণ জাহাজ বাড়ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, ১০ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ওয়ার্কেবল অপেক্ষমাণ জাহাজ রয়েছে ৫৩টি। এর মধ্যে কন্টেইনার জাহাজ ১৬টি, জেনারেল কার্গো জাহাজ ১৫টি, ফুড গ্রেইন বোঝাই জাহাজ ৬টি, ক্লিংকারবাহী জাহাজ ২টি এবং অয়েল ট্যাংকার ৭টি। 

বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড সদস্য ক্যাপ্টেন আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বন্দরের বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা একটু বেশি। সাধারণত দিনে ১০ থেকে ১৫টি জাহাজ চলে এলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে এখন বহির্নোঙরে জাহাজের যে সংখ্যা তা নিয়ে আশঙ্কার কিছু নেই। যে ফ্লোতে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস হচ্ছে তাতে জট তৈরির সুযোগও কম। কয়েকদিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’

এদিকে অন্যান্য বারের মতো এবারও ঈদের ছুটিতে বন্দর থেকে কন্টেইনার ডেলিভারি কম হয়েছে। কন্টেইনার ডেলিভারির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঈদের ছুটি শুরুর প্রথম দুই দিনে বন্দর থেকে কন্টেইনার ডেলিভারি স্বাভাবিক থাকলেও এরপর কমতে থাকে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন যেখানে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার একক কন্টেইনার ডেলিভারি হয় সেখানে গত পাঁচ দিনে ডেলিভারি হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ১২৬ একক। 

জানা যায়, ছুটি শুরুর আগে গত ৪ জুন বন্দর থেকে ৪ হাজার ৭৫৪ একক কন্টেইনার ডেলিভারি হয়। এরপর গত ৫ জুন কিছুটা কমে ৪ হাজার ১২২ একক কন্টেইনার ডেলিভারি হয়। ৬ জুন কন্টেইনার ডেলিভারি হয় ৩ হাজার ৫০৬ একক। এরপর ৭ জুন হঠাৎ করেই ৮০ শতাংশের বেশি কন্টেইনার ডেলিভারি কমে যায়। ওই দিন বন্দর থেকে কন্টেইনার ডেলিভারি হয় মাত্র ৫২১ একক। এরপর ৮ জুন একটি কন্টেইনারও বন্দর থেকে ডেলিভারি হয়নি। ৯ জুন ৪৩৭ একক কন্টেইনার ডেলিভারি হয়। এরপর ১০ জুন কন্টেইনার ডেলিভারি হয়েছে ১ হাজার ৩৮১ একক এবং সর্বশেষ ১১ জুন বন্দর থেকে কন্টেইনার ডেলিভারি হয় ১ হাজার ৭৮১ একক। 

ঈদের দিন থেকে কন্টেইনার ডেলিভারি কমলেও এবার বন্দরে কন্টেইনার জট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেনি। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী গতকাল বুধবার পর্যন্ত বন্দরে ৪০ হাজার ৬৬১ একক কন্টেইনার রয়েছে। বন্দরে কন্টেইনার ধারণক্ষমতা ৫৩ হাজার ৫১৮ একক। এই ধারণক্ষমতার বিপরীতে ৪০ হাজারের বেশি কন্টেইনার জমলেই জট তৈরির আশঙ্কা দেখা দেয়। 

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিজিএমইএ নব নির্বাচিত কমিটির পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বন্দরে ডেলিভারির অপেক্ষায় থাকা কন্টেইনারের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়া মানেই অ্যালার্মিং। এখন কোনো কারণে এক-দু’দিন কন্টেইনার ডেলিভারি কম হলে বন্দরে কন্টেইনার জট তৈরি হবে। জট যাতে না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের তৎপর থাকতে হবে। জট তৈরি হলে আমরা ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হব।’

বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড সদস্য ক্যাপ্টেন আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে যাতে বন্দরে কন্টেইনার এবং জাহাজ জট তৈরি না হয় সেজন্য আমরা আগেভাগেই বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তাই এবারে কন্টেইনার জট তেমন নেই। গত ঈদে যেখানে বন্দরে ডেলিভারির অপেক্ষায় থাকা কন্টেইনারের সংখ্যা ৪১ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, সেখানে এবার এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের সামান্য বেশি কন্টেইনার আছে।’

কন্টেইনার ডেলিভারি কার্যক্রম আরও বাড়বে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েকদিনের তুলনায় কন্টেইনার ডেলিভারি বেড়েছে। আশা করছি, এবার বড় ধরনের কন্টেইনার জট তৈরি হবে না।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা