চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৫ ১৭:৫৬ পিএম
অবিলম্বে পাহাড় কাটা বন্ধে টাস্কফোর্স এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানিয়েছে পিপল’স ভয়েস। পাশাপাশি ১১ জুনকে জাতীয় পাহাড় রক্ষা দিবস ঘোষণারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পিপলস ভয়েস’২০০৭ সালের ১১ জুন পাহাড় ধ্বসে চট্টগ্রামে ১২৭ জন নিহত হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর এই দিনটিকে ‘পাহাড় রক্ষা দিবস’ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। চলতি বছর ঈদের বন্ধসহ বিভিন্ন অনিবার্য কারণে কর্মসূচি আয়োজন সম্ভব না হওয়ায় সংগঠনের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
দিনটি উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচটি দাবি জানিয়েছে। তা হল- ১১ জুনকে জাতীয় পাহাড় রক্ষা দিবস ঘোষণা, ২০০৭ সালে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন, টাস্কফোর্স গঠন করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ সুরক্ষা করে সকল উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা।
প্রতি বছর চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারে পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় প্রাণ ও সম্পদহানি ঘটে। এর প্রেক্ষিতে পিপল’স ভয়েস অবিলম্বে- পাহাড়ের পাদদেশে থাকা সকল বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া, পাহাড় কেটে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, অবৈধ স্থাপনায় সরকারি সেবা সংস্থার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, টাস্কফোর্স গঠন করে পাহাড় দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা ও বিচার শুরু, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তার জন্য দোষীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং স্থানীয় প্রতিনিধিত্বশীলদে সম্পৃক্ত করে সমস্যা সমাধানে দ্রুত নির্দেশনা দেয়ার দাবি জানাচ্ছে।
২০০৭ সালের ১১ জুন পাহাড় ধ্বসে চট্টগ্রামে ১২৭ জন নিহত হয়েছিল। ২০১৭ সালে রাঙামাটিতে পাহাড় ধ্বসে ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অথচ আজ পর্যন্ত পাহাড় কাটা থামেনি। এরপর প্রায় প্রতি বছর বন্দর নগরী চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধ্বসে আরও কয়েকশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। পিপল’স ভয়েস বলতে চায়, এসব ঘটনা কোনো দুর্ঘটনা নয়। পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানি বন্ধে অবিলম্বে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছে পিপল’স ভয়েস।