বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৫ ১৬:৩৫ পিএম
নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। প্রবা ফটো
বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে অন্যতম হলো বান্দরবান। আঁকাবাঁকা পথ, উঁচুনিচু সবুজ পাহাড়, মেঘ, নদী, ঝর্ণা আর জলপ্রপাতের অপরূপ মিলনস্থল এই জেলা প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণপিপাসুদের জন্য যেন এক স্বর্গরাজ্য। পাহাড়কন্যা খ্যাত এই জেলায় রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান, যা প্রতিনিয়ত পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ১০ দিনের সরকারি ছুটিকে কেন্দ্র করে বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র জেলা প্রশাসন পরিচালিত নীলাচল, মেঘলা প্রান্তিক লেক, শৈল প্রপাত, চিম্বুক, নীলগিরি রুমার বগালেক পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকা থেকে ১০ জনের একটি বাইক রাইড টিম নিয়ে আসা পর্যটক হাফিজুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন পর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য বগালেক ঘুরতে পেরে ভালো লাগছে। আশা করি সামনে কেওক্রাডং বা চিংড়ি ঝর্ণার মতো জায়গাগুলোও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।”
প্রথমবার বান্দরবানে ভ্রমণে আসা হিমু রায়হান বলেন, “সবুজে ঘেরা পাহাড়ের সৌন্দর্য অসাধারণ। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর হঠাৎ খোলায় থাকা-খাওয়ার কিছু সমস্যা হচ্ছে।”
হলিডে ইনন ও ইকোসেন্স রিসোর্টের মালিক জাকির হোসেন বলেন, “বর্ষার শুরুতে পাহাড় আর মেঘের অপূর্ব দৃশ্য দেখতে অনেক পর্যটক আসবেন বলে আশা করছি। ইতোমধ্যে আমার দুটি রিসোর্টেই ৯-১০ জুন পর্যন্ত শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে।”
বান্দরবান হোটেল-মোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং হোটেল আরণ্যর মালিক জসিম উদ্দিন বলেন, বান্দরবান সদরে ৭৩ হোটেল-রিসোর্টে ৫ হাজার পর্যটকের ধারণক্ষমতা আছে। ৯ ও ১০ জুন শতভাগ বুকিং আছে।
হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালির ম্যানেজার ইসমাইল হোসেন সুমন বলেন, “ঈদুল আজহার ১০ দিনের সরকারি ছুটিকে ঘিরে আমাদের হোটেলের ১০ জুন পর্যন্ত শতভাগ রুম ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। এবার ঈদের ছুটিতে আশানুরূপ পর্যটকের আগমন ঘটেছে। এতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা খুশি।”
বান্দরবান ট্যুরিস্ট রিজিয়নের পুলিশ সুপার (এসপি) হাসান ইকবাল চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ইতোমধ্যে জেলায় প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটেছে। টানা ঈদের ছুটিতে দেবতাখুম, নীলাচল, মেঘলা, শৈলপ্রপাত, চিম্বুকসহ গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুই শিফটে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এসময় তিনি পর্যটকদের নিরাপদ ও আনন্দদায়ক ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।