অর্ণব মল্লিক, কাপ্তাই (রাঙামাটি)
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৫ ১১:৩৮ এএম
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের গাছে ঝুলছে ডিমফল
ফলটির স্বাদ-গন্ধ অনেকটা ডিমের মতো। এর ভেতরের অংশও দেখতে সিদ্ধ ডিমের কুসুমের মতো। এমনই একটি ব্যতিক্রমধর্মী ফলের সন্ধান মিলেছে কৃষির বাতিঘর খ্যাত রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্রে। ফলটির নাম টিসা বা এগ ফ্রুট, যার বাংলা অর্থ ডিমফল। তবে এটি আমাদের দেশের নিজস্ব কোনো ফল নয়।
ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্রে প্রথম এই ফলের চাষ শুরু হয়। এর উৎপত্তি দক্ষিণ মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চলে। ভিটামিন, মিনারেল ও ঔষধি গুণসমৃদ্ধ এই ফল বাংলাদেশে একটি মাইনর ফ্রুট বা অপ্রচলিত জাত হিসেবে পরিচিত, যা পাহাড়ি অঞ্চলে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলে দিতে পারে। চার-পাঁচ বছর বয়সি একটি গাছে গড়ে ৪৫০ থেকে ৫০০টি পর্যন্ত ফল ধরে। প্রতিটি ফলের ওজন গড়ে ১৭০ থেকে ১৯৫ গ্রাম এবং গাছপ্রতি ফলন হয় ৬৫ থেকে ৭০ কেজি পর্যন্ত। এই ফলে ভক্ষণযোগ্য অংশ প্রায় ৮০ থেকে ৮২ শতাংশ। ফলটি পরিপক্ব হলে এর রঙ হয় উজ্জ্বল হলুদ। এ ফল থেকে কেক, চকলেট, জুস ও আইসক্রিমসহ বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার তৈরি করা যায়।
কাপ্তাই রাইখালী কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ২০১৫ সালে এই ফলের চাষ করার পর ২০২১ সালে গাছে প্রথম ফুল ও ফল আসে। গবেষণাকেন্দ্রের ২০টি গাছের প্রতিটিতে এখন ফলন হয়েছে। উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এই ফলটির ভেতরের অংশ দেখতে অনেকটা সিদ্ধ ডিমের কুসুমের মতো। তাই এটাকে এগ ফ্রুটও বলা হয়। গত ৬ বছর ধরে এই কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে এই ফল নিয়ে সফলতা অর্জন করেছেন।
একই কেন্দ্রের সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বাংলাদেশে রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো এই ফলটির উদ্ভাবন করা হয়েছে। যার ফলে ডিমফলটি কৃষিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। গত পাঁচ বছর ধরে গবেষণা করে এর সফলতা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই ফল দিয়ে বিভিন্ন প্রকারের প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন কেক, চকলেট, জুস ও আইসক্রিম তৈরি করা যায়। এছাড়া কমবেশি এই গাছ সারা বছর ফলন দেয়। বর্ষা মৌসুমের আগে বা পরে সার দিতে হয় গাছগুলোতে। এই গাছে কোনো রোগবালাই হয় না। সহজে চাষাবাদ করা যায় বলে গাছটি জনপ্রিয়তা লাভ করছে।
পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের সাথে সম্পৃক্ত স্থানীয় কয়েকজন চাষি বলেন, পাহাড়ের মাটি এই টিসা বা ডিমফলটি চাষের উপযোগী। তাই আমরা চেষ্টা করছি ফলটির চাষ বৃদ্ধি করতে। এতে স্থানীয় চাষিরা এই ফলটি চাষাবাদ করে বেশ লাভবান হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।