সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৫ ১১:৩৪ এএম
আপডেট : ০৩ জুন ২০২৫ ১১:৩৮ এএম
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ফুরসত নেই কিশোরগঞ্জের কামার পট্টিতে। কান পাতলেই শোনা যায় হাতুড়ি পেটানোর শব্দ। কেউ ভারী হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন আগুনরঙা লোহার খণ্ড। কেউবা হাপর টানছেন। কেউ কয়লার আগুনে বাতাস দিচ্ছেন। কোনো কোনো দোকানে কেউ আবার পুরোনো দা-ছুরিতে শানও দিচ্ছেন। পশুর মাংস তৈরিতে প্রয়োজন পড়ে এগুলো। মাংস তৈরিতে দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি বড় অনুষঙ্গ। ফলে এসব তৈরিতে ব্যস্ত কামাররা।
শহর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের সবখানেই কামারদের এই ব্যস্ততা চোখ এড়িয়ে যাওয়ার নয়। স্থায়ী কামারের দোকানের পাশাপাশি আসন্ন ঈদে বিভিন্ন হাট-বাজারে বসেছে অস্থায়ী দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতির দোকানও। তাদের ক্লান্তিহীন শ্রমে তৈরি হচ্ছে কোরবানির গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি। অগাম অর্ডার করা ছাড়াও বিক্রির জন্য ছুরি-চাপাতি, দা-বঁটি সাজিয়ে রেখেছেন দোকানের সামনে।
কামার দোকান মালিকরা বলেন, বছরের ১১ মাস কোনো রকম টিকে থাকলেও কোরবানির সময় ব্যস্ত হয়ে পড়েন কামার শিল্পীরা। বিক্রি ও শান দিয়ে প্রতিদিন তারা তিন থেকে চার হাজার টাকার মতো আয় করছেন। কোরবানির সময়ে উপার্জন করা টাকা দিয়েই সারা বছর ব্যবসা টিকিয়ে রাখেন তারা। কোরবানির আগে আকার ও ওজনভেদে দাম ঠিক করা হয়। এখন অন্য সময়ের চেয়ে প্রতিটি সামগ্রীতে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেশি রাখা হয়। শান দিতেও দাম দ্বিগুণ রাখা হয়।
জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরান থানা, বড় বাজার, আখরা বাজার, টিনপট্রি, মোরগ মহলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজারের কামারের দোকানগুলোয় ব্যস্ততার মধ্যে চলছে কোরবানির পশু জবাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরির কাজ।
কামাররা ভারী হাতুড়ি দিয়ে আগুনে পোড়া লোহার খণ্ড পিটিয়ে প্রয়োজনীয় দা-বঁটি, চাকু, ছুরি ও চাপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করছেন। এ ছাড়া চলছে বিভিন্ন সরঞ্জামে শান দেওয়ার কাজও।
গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জাম। কোরবানির পশু জবাইয়ের এসব অস্ত্র তৈরি করার সময় হাপরের ফোঁসফাঁস আর লোহা পেটানোর টুং টাং শব্দে মুখর পুরো এলাকা। কয়লার চুলায় জ্বলছে আগুন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন কারিগররা।
এ চাহিদা পূরণে ব্যস্ততা বেড়েছে বিভিন্ন কামারের দোকানে। বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে এই শিল্পের দুর্দিন চললেও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কয়েকগুণ ব্যস্ততা বেড়ে যায় কামারদের।
বড় বাজারের কামার শিল্পী মোবারক হোসেন জানান, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, দা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বটি ৪০০ থেকে ৫০০, পশু জবাইয়ের ছুরি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা ও চাপাতি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মোরগ মহলের কামার শিল্পী খাইরুল বলেন, ‘কোরবানি ঈদে তারা প্রতি বছর বিভিন্ন ধরনের উপকরণ তৈরি করেন। বর্তমানে লোহা ও কয়লার দাম অনেক বেড়েছে। সে তুলনায় কামার শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি।’
আখরাবাজারের কামার শিল্পী বাবু দাস বলেন, ‘সারা বছর বেচাকেনা কিছুটা কম থাকে। কোনোরকম দিন যায়। এই সময়ের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকি। কোরবানির ঈদের আগে বেচাকেনা ভালো হয়।’