দিলীপ মজুমদার, কুমিল্লা
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৫ ১১:৩১ এএম
আপডেট : ০৩ জুন ২০২৫ ১১:৩৮ এএম
কুমিল্লার চান্দিনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চারটি বিদ্যালয়ের মাঠে গরুর হাট বসানো হয়েছে। এর ফলে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগের দিনও বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান সম্ভব হয়নি। নামমাত্র বিদ্যালয় খোলা থাকলেও শুধু বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ছাড়া বাকি সব শ্রেণিকক্ষগুলো তালাবদ্ধ। বিদ্যালয়ের মাঠ ছাপিয়ে স্কুল ভবনের বারান্দায়ও দখলে নিয়েছে গরু-ছাগল। গতকাল সোমবার উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের ইজারা দেওয়া নির্ধারিত হাট থেকে গরুর বাজার সরিয়ে ইজারাদারেরা নিজেদের সুবিধার্থে স্কুল মাঠে বাজার বসাচ্ছেন। আবার ঈদের আগ মুহূর্তে উপজেলা প্রশাসন থেকে অস্থায়ী গরুহাট ইজারা নিয়ে সেই হাটগুলো বসাচ্ছে স্কুলমাঠে। বছরের পর বছর এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। চান্দিনা পৌরসভাসহ উপজেলায় ৪টি স্থায়ী গরু বাজার ইজারা দেয় প্রশাসন। কিন্তু ঈদের পূর্ব মুহূর্তে পশুর হাট নিয়ে আসা হয় দোল্লাই নবাবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে। শুধু দোল্লাই নবাবপুরই নয়, শ্রীমন্তপুর, কাদুটি ও ধেরেরার তিনটি স্কুলমাঠেরও একই চিত্র। এভাবে চান্দিনার ২৬টি গরুর হাটের মধ্যে ৪টি বসেছে বিদ্যালয়ের মাঠে।
দোল্লাই নবাবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন বলেন, বাজারের নির্ধারিত স্থান থাকলেও কোরবানির পশুর হাট প্রতিবছর স্কুলমাঠেই বসে। সকালে বৃষ্টির কারণে গবাদিপশু স্কুলের বারান্দায়ও উঠে এসেছে। এখনও বারান্দায় ক্যাশ কাউন্টার রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার বলেছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ বছর কাউকে কিছু বলিনি। এর ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
কাদুটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফিকুল ইসলাম বলেন, বছরের পর বছর এভাবেই চলছে। গত বৃহস্পতিবার থেকেই তাদের বিদ্যালয় বন্ধ, তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চালু ছিল সোমবার পর্যন্তÑ তার মধ্যেই হাট বসেছে।
দোল্লাই নবাবপুর বাজারের ইজারাদার শাহজাহান সাজু বলেন, গরু বাজারের নির্ধারিত স্থানে জায়গা কম থাকায় যুগের পর যুগ ধরে কোরবানির ঈদে স্কুলমাঠেই পশুর হাট বসে। এবারও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি নিয়ে বাজার চালাচ্ছি। শ্রীমন্তপুর বাজারের ইজারাদার জাকির হোসেন বলেন, স্কুলমাঠের বেশিরভাগ অংশই খাসজমি। আমরা ইজারা নিয়ে সেই খাস জায়গায় গরুর হাট বসিয়েছি।
চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল হক বলেন, আমি কোনো স্কুলমাঠে গরুর বাজার বসানোর অনুমতি দিইনি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। যারাই স্কুলমাঠে হাট বসিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।