রাজু আহমেদ, রাজশাহী
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৫ ১১:২৯ এএম
পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের (বিএমডব্লিউএসএসপি) আওতায় রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালি পৌরসভা, বাঘা উপজেলার বাঘা পৌরসভা এবং বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভায় দুটি প্যাকেজের মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হয় সাড়ে চার বছর আগে। কাজের মেয়াদ ছিল দেড় বছর। কিন্তু ৫ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
এদিকে কাজ শেষ করতে না পারলেও বেশিরভাগ টাকাই তুলে নিয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে তদারকির অভাবের অভিযোগও রয়েছে।
এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। অর্থায়ন করছে জিওবি, বিশ্বব্যাংক এবং এআইবি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, পানি সরবরাহ কাজটিকে দুভাবে ভাগ করে দুটি ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মাটির নিচ থেকে পানি তুলে এবং ওভারহেড ট্যাংকি পর্যন্ত পানি সরবরাহ কাজকে বলা হচ্ছে ট্রান্সমিশন এবং বাড়ি বাড়ি পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহকে বলা হচ্ছে ডিস্ট্রিবিউশন।
কাজের মেয়াদ ছিল ১৮ মাস। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২৪ মাস। কিন্তু ৫ বছরেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে ঠিকাদারের গড়িমসিতে ধীরগতিতে কাজ এগুচ্ছে। আর ঠিকাদারের অভিযোগ কাজের সাইট বুঝিয়ে দিতে দেরি করেছে কর্তৃপক্ষ।
১০ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে কাটাখালী পৌরসভায় পানি সরবরাহের ডিস্ট্রিবিউশন পাইপ লাইন অংশের কাজ করছে সারা এন্টারপ্রাইজ এবং ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে মেসার্স কবির হোসেন ও মের্সাস ডন এন্টারপ্রাইজ ট্রান্সমিশন অংশের কাজ করছে। ১০ কোটি ৭০ লাখ টাকার মধ্যে ৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং ১২ কোটি টাকার মধ্যে ১০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে এই দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। বাঘা ও তাহেরপুর পৌরসভাতেও এই একই কাজ করছে এই দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিন দেখা যায়, কাটাখালী পৌরসভার দেওয়ানপাড়ায় বিশাল আকৃতির ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণকাজ চলমান। পাশেই কয়েকটি পাইপ পড়ে আছে। এখনও বাড়ি বাড়ি পাইপ লাইনের সংযোগ দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন হলেও এখনও নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় কবে তারা পানির সংযোগ লাইন পাবেন, এটা তারা জানেন না।
পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামপুর এলাকার সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন হয়ে গেল, এখন পর্যন্ত এই ওভারহেড ট্যাংকের কাজ শেষ হয়নি। কবে যে পানি পাবো তাও জানিন।’
মের্সাস কবির হোসেন ও ডন এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্সে কাটাখালীতে ট্রান্সমিশন অংশের কাজটি করছেন সামসুর রহমান শান্তনু। তিনি বলেন, করোনায় দুই বছর কাজে দেরি হয়েছে। এরপর ওভারহেড ট্যাংকি নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষ আমাদের নির্ধারিত জমি বুঝিয়ে দিতে পারেনি। ফলে কাজ দেরি হয়েছে। এখন কাজের ফিনিশিং চলছে। আশা করছি চলতি জুন মাসেই কাজ বুঝিয়ে দিতে পারব।
এদিকে সারা ইন্টার ন্যাশনালের লাইসেন্সে ডিস্ট্রিবিউশন পাইপলাইনের কাজ করছেন সালাউদ্দিন সোহাগ। তার মোবাইলে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেপুটি প্রজেক্ট ডাইরেক্টর (ডিপিডি) মাহমুদুর রশিদ মজুমদার বলেন, ‘করোনার সময়ে প্রকল্পের কাজ অনেকটা পিছিয়ে যায়। তারপর আগস্টে পৌরসভায় মেয়র কাউন্সিলর বাদ হয়ে প্রশাসক এবং কর্মকর্তা বদলি হয়েছে, এখানেই প্রায় ৬ মাসের মতো সময় চলে গেছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য। প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সব কাজ শেষ করতে পারব।’