× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

উত্তর-পূর্বে বন্যা পরিস্থিতি, দক্ষিণে ভূমিধস

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৫ ২১:৩৯ পিএম

উত্তর-পূর্বে বন্যা পরিস্থিতি, দক্ষিণে ভূমিধস

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে দেশে চরম দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ভারত থেকে বাংলাদেশ হয়ে বয়ে চলা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এসব এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়েছে হাজারো পরিবার। পানিতে ডুবে গেছে ফসলের মাঠ। এদিকে দক্ষিণাঞ্চলে পাহড়ি ঢলে বিভিন্ন জায়গায় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পাহাড়ধসে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভূমিধস। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা, খাবার বিতরণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আখাউড়ায় ১৯ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি ৪৫০ পরিবার

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ১৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৪৫০ পরিবারের অন্তত দেড় হাজার মানুষ।

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে আখাউড়ার বিভিন্ন নদ-নদী, খাল-বিলে পানি বেড়েই চলেছে। এ ছাড়া গত শনিবার রাত থেকে উপজেলায় পাহাড়ি ঢল নামতে শুরু করে। এতে আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ, মোগড়া ও মনিয়ন্দ ইউনিয়নের গ্রামের ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও কিছু বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যায়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য ১৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক বন্যায় উপজেলার ৬১টি হেক্টর কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে আউশ আবাদ, আউশ বীজতলা, শাকসবজি, আদা, হলুদ ও পুষ্টিবাগান রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর রহমান বলেন, আখাউড়া উপজেলার হাওড়া নদীর ভারত সীমান্তে সোমবার সকাল ৯টায় পানি বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সোমবার (২ জুন) একই সময়ে পানির সমতল ছিল ১১ দশমিক ৫৮ মিটার। অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।

ক্রমশ বাড়ছে মৌলভীবাজারের পাঁচ নদীর পানি

গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার জেলার মনু, জুড়ী, সোনাই, ফানাই ও কন্টিনালা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার বেলা ৩টা পর্যন্ত জেলার জুড়ী উপজেলার জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ১৬৯ সেন্টিমিটার, মনু নদীর পানি মৌলভীবাজার শহর পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার ও মনু রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সোমবার কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিখড়িয়া এলাকায় মনু নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের পুরাতন ভাঙন দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়নসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার অন্যান্য ২০টি ইউনিয়ন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে তলিয়ে গেছে আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়ক। এতে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন জলাবদ্ধ এলাকার বাসিন্দারা।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন বলেন, ‘ভারী বর্ষণে সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি ইউনিয়ন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার রয়েছে জলাবদ্ধতায়। জলাবদ্ধ পরিবারগুলোর জন্য ইতোমধ্যে ইতোমধ্যে ১০ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। চলছে শুকনো খাবার বিতরণ। যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী মজুদ রয়েছে।’

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘উপজেলায় মনু নদীর গোগালীর বাঁধ ভেঙে পৌরসভা এলাকার জয়পাশ উত্তর ও দক্ষিণ এবং দানাপুর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে জয়পাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছি। প্লাবিত এলাকার পরিবারগুলোর মাঝে ১৪ কেজি করে চাল, ডাল, আলু ও শুকনো খাবারসহ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছি।’

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বড়লেখা শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রবিবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মোট ২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছি। এ ছাড়া প্লাবিত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।’

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ বলেন, ‘গত তিন দিনে জেলায় মোট ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। এ ছাড়া উজানের পানিতে অনেক স্থান প্লাবিত হয়েছে। উজানে ভারতের অংশে যদি বৃষ্টিপাত না হয়, তবে আশা করছি রাতের দিকে পানি কমতে শুরু করবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সব সময় প্রস্তুত রয়েছি।’

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন বলেন, ‘বন্যার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যে জেলার সাত উপজেলায় ১১৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি উপজেলায় ৩ লাখ টাকা করে সাত উপজেলার ২১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

তিস্তার পানি বৃদ্ধি, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে হঠাৎ করেই তিস্তা নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে লালমনিরহাট জেলার তিস্তা-তীরবর্তী বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের শত শত একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে বাদাম, ভুট্টা, পাট ও ধানের মাঠ। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা। নৌকা ও অন্যান্য উপায়ে ক্ষতিগ্রস্ত জমি থেকে ফসল উদ্ধারে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

সরকারিভাবে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করা না হলে এই এলাকার কৃষকদের পুনরুদ্ধার দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার হয়ে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, ‘ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। এ বছর বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ বন্যা দেখা দিয়েছে। পরবর্তীতে ক্ষতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের লালমনিরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী তিন দিন তিস্তায় পানি কিছুটা বাড়ন্ত থাকতে পারে। জরুরি দুর্ঘটনা মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৫৩ স্থানে ভূমিধস, ১৪০০ বসতি ক্ষতিগ্রস্ত

কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫৩টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাটি দেয়ালধসে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর বজ্রপাতে আহত হয়েছেন ১১ জন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১৪০০ বসতি।

সোমবার সন্ধ্যায় এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইউএনএইচসিআর সাব-অফিস কক্সবাজারের যোগাযোগ সহযোগী মোশারফ হোসেন।

বার্তায় বলা হয়েছে, এই সপ্তাহের শেষে আরম্ভ হওয়া প্রবল বৃষ্টিপাত জনবহুল শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে আঘাত করেছে, যা হাজারো রোহিঙ্গা শরণার্থীর অস্থায়ী আশ্রয়স্থলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মাত্র দুই দিনের ভারী বর্ষণে ৩৩টি শিবিরে ৫৩টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে বন্যা ও ঝড়ো হাওয়ায় ১৪০০টির বেশি আশ্রয়স্থল ক্ষতির সম্মুখীন। দেয়ালধসে একজন প্রাণ হারিয়েছেন ও বজ্রপাতে আহত হয়েছেন ১১ জন, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

অন্তর্বর্তীকালীন ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেইসনি বলেন, খাড়া ঢালু জায়গা, বন্যা ও অস্থায়ী আশ্রয় মিলিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে এবং কমিউনাল সেন্টারগুলোতে স্থানান্তরে শরণার্থী স্বেচ্ছাসেবকরা সহায়তা করছেন। শেল্টারের জন্য আমাদের আরও জায়গা দরকার।

কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আশপাশের বাংলাদেশি জনগণ একইভাবে এমন একটি এলাকায় বাস করছেনÑ যেখানে বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি সবসময় থাকে। এই দুর্যোগগুলোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটা জীবনরক্ষাকারী। দুর্দশাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সহায়তার জন্য আমরা জরুরিভাবে দাতাদের উদাত্ত আহ্বান জানাই তারা যেন উদারভাবে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন।

শেরপুরে বেড়েছে সব নদ-নদীর পানি

শেরপুরে বেড়েছে পাহাড়ি সব নদ-নদীর পানি। এর মধ্যে নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এখনও কোনো বাড়িঘর প্লাবিত হয়নি। সোমবার বিকাল পৌনে ৪টায় এ তথ্য জানিয়েছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে সকালে ঝিনাইগাতীর ধানশাইল ইউনিয়নের কাড়াগাঁও এলাকায় সোমেশ্বরী নদীর পাড় ভেঙে নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করছে। উজানের পানি নেমে নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে খালবিলে পানি বেড়েছে। 

যেকোনো সময় পানি আরও বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান বলেন, উজানে বৃষ্টিপাত হওয়ায় শেরপুরের নদ-নদীর পানির সমতল বেড়েছে। তবে আগামী ১২ ঘণ্টায় পানি কমতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

সুনামগঞ্জে সব নদ-নদীর পানি কমেছে

গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ২৫. মিমি ও ছাতকে ১৮ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টি কম হওয়ায় সুরমা, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী নদীর পানি কমেছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী দুদিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতির জরুরি খবর আদান-প্রদান এবং জনগণের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এর আগে গত ৩১ মে তাহিরপুরে বন্যা পরিস্থিতি ও সতর্কতা অবলম্বনে ৭টি ইউনিয়নে ৩৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

বান্দরবানে পাহাড়ধসে আহত ১

টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে চশৈনু মারমা (৩৮) নামে একজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার সকালে তিন্দু ইউনিয়নের বাজার এলাকায় পাহাড়ধসে রান্নাঘরের ওপর মাটি পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ধসের সময় চশৈনু মারমা নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। মাটির নিচে চাপা পড়ে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ওয়াহিদুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আহত ব্যক্তিকে দুপুরে হাসপাতালে আনা হয়। তার ডান পা ভেঙে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালা-লংগদু সড়কে বন্ধ যান চলাচল

টানা ভারী বর্ষণের ফলে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়, পরে বিকালের দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সড়কের একাধিক স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় এবং কাঁচা রাস্তার ভাঙনে এ অবস্থা তৈরি হয়। অন্যদিকে মহালছড়ির চৌংড়াছড়ি এলাকার কয়েকশ পরিবার বন্যার কবলে পড়েছে। তবে সন্ধ্যার দিকে বন্যার পানি কমেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর থেকে প্রবল বর্ষণ শুরু হয় খাগড়াছড়ির পাহাড়ি অঞ্চলে। ফলে দীঘিনালার মাইনী, বড়াদম, বোয়ালখালী এবং ঘিলাছড়ি এলাকায় বিভিন্ন খাল ও ছড়া দিয়ে নেমে আসে পাহাড়ি ঢল। দীঘিনালা-লংগদু সড়কের অন্তত তিনটি স্থানে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়। সড়কের বেশ কিছু স্থানে মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্তেরও সৃষ্টি হয়েছে, যা যানবাহনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগ সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন হলে আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে এবং দুর্গত এলাকাগুলোতে শুকনো খাবার সরবরাহের প্রস্তুতি রয়েছে।

বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সরকারি ছড়ায় কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে শিল্পগ্রুপ নাহার অ্যাগ্রোর বিরুদ্ধে। পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথ বন্ধ করে রাস্তা নির্মাণ করায় বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আশপাশের এলাকা তলিয়ে যায়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে স্থানীয় কয়েকটি পরিবার।

স্থানীয়রা জানান, ডলুখালের শাখা কাঞ্চনীছড়াটি বহু বছর ধরে এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম ছিল। বর্ষাকালে এই ছড়ার মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি সহজে পাশের ডলুখালে গিয়ে পড়ত। কিন্তু নাহার অ্যাগ্রো নিজেদের ফার্মে গাড়ি চলাচলের জন্য সরকারি ছড়াটির ওপর কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে রাস্তা তৈরি করায় পানির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ ব্যাপারে নাহার অ্যাগ্রো (ডলু নয়াবাজার) ফার্মের ব্যবস্থাপক ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করিনি। ছড়ার মাঝে নালা স্থাপন করে ওপরে রাস্তা করেছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘ছড়ার ওপর রাস্তা তৈরি করতে প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।’

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ছড়ার ওপর বাঁধ নির্মাণ করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা নাহার অ্যাগ্রোকে দুদিনের সময় দিয়েছি। তারা এ বাঁধ না সরালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

[প্রতিবেদন তৈরিতে সাহায্য করেছেন আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মৌলভীবাজার, লালমনিরহাট, কক্সবাজার, শেরপুর, সুনামগঞ্জ, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিবেদক]

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা