বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৫ ২২:১৫ পিএম
আপডেট : ৩১ মে ২০২৫ ২২:২১ পিএম
টানা বর্ষণে পার্বত্য অঞ্চলের দুই জেলা বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির সড়কে ভাঙন, ছোট-বড় পাহাড়ধস, নদীর পানি বৃদ্ধিসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে বান্দরবান-সুয়ালক-লামা বাইপাস সড়কে বড় ধরনের ভাঙনের কারণে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে খাগড়াছড়ির পৌর শহর ও আশপাশের এলাকায় ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার। সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ায় ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।
এ ছাড়া ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং প্লাবিত হয়েছে। প্রতিদিনের বাংলাদেশের প্রতিবেদকদের পাঠানো প্রতিবেদনে :
বান্দরবানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
বান্দরবান-সুয়ালক-লামা বাইপাস সড়কের টংকাবতী ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া এলাকায় অন্তত তিনটি স্থানে বড় ধরনের ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। শনিবার (৩১ মে) সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সড়কটি এখন পুরোপুরি অচল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই বছর আগে কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি কার্পেটিং করা হলেও এরপর আর কোনো সংস্কার হয়নি। প্রতিবছর বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যায়। তবে এবারের ক্ষতি অতীতের চেয়েও বেশি।
টংকাবতী ইউনিয়নের পুনর্বাসন ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দা হেবল ত্রিপুরা বলেন, ‘দুই বছর আগে কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি পাকা করলেও এখন এটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের জানিয়েও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
একই কথা জানান স্থানীয় বাসিন্দা তঙ্গয়ে ম্রো ও ট্রাকচালক জসিম। তারা জানান, বৃষ্টি হলেই সড়কের মাটি ধসে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে অতি বৃষ্টির কারণে সড়কের দুপাশ ধসে পড়ায় গত শুক্রবার থেকে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে।
টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মায়াং ম্রো প্রদীপ বলেন, সড়কটি গত বছর থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল, বারবার জানানো হলেও এলজিইডি ব্যবস্থা নেয়নি। এখন বর্ষার শুরুতেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী পারভেজ সরোয়ার হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, হেডম্যান পাড়ার তিনটি জায়গায় ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে সরেজমিনে দেখে বাজেট প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই জরুরি মেরামতের জন্য প্রধান কার্যালয়ে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হবে। স্থায়ী সমাধানের জন্য সড়কের দুই পাশে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণের প্রস্তাবও দেওয়া হবে।
খাগড়াছড়িতে পাহাড়ধসে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
খাগড়াছড়ির পৌর শহর ও আশপাশের এলাকায় ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার। কলাবাগান, সবুজবাগ, শালবন ও কুমিল্লাটিলা এলাকাকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শালবন এলাকায় পাহাড়ধসে একাধিক ঘরে মাটি ঢুকে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, রাত ১টার সময় পাহাড় ভেঙে আমার ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ে। পরিবার নিয়ে সারা রাত জেগে আতঙ্কে ছিলাম।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় বলেন, আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে সরিয়ে নিচ্ছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সেখানে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এদিকে জেলার দীঘিনালা উপজেলার মাইনী নদীতে লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে শুক্রবার সকালে নিখোঁজ হন তড়িৎ চাকমা (৫৫)। বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমা জানান, স্থানীয়রা নদীতে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সিলেট (গোয়াইনঘাট) পর্যটনকেন্দ্র জাফলং প্লাবিত
ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা ঢলে গত শুক্রবার সকালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ের জিরো পয়েন্টসহ আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। পানির তোড়ে পিয়াইন নদের পানি উপচে ভাসমান দোকানগুলো তলিয়ে গেছে। এতে পর্যটন ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানান, নদে পানি বাড়ছে, তবে এখনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর আসেনি। প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।