নাঈম ইসলাম, শেরপুর
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৫ ০৯:৪১ এএম
শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মোবারকপুর সড়কের সংস্কার কাজ নিয়ে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাতের টানেই উঠে আসছে নতুন সংস্কার করা সড়কের কার্পেটিং।
স্থানীয়রা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে নানা হুমকিসহ মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। অন্যদিকে এলজিইডি নিজেদের কাজের স্বপক্ষে নানা সাফাই গাইছেন।
জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ২ কোটি ১২ লাখ ৩৮ হাজার ১১৩ টাকা ব্যায়ে চরশেরপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মোবারকপুর পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ মিটার সড়কটির সংস্কার কাজ চলছে। সড়কের সংস্কার কাজ করছেন মেসার্স এমএম এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সড়কের কাজ গত এপ্রিল মাসের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও তা শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করা হয়েছে। কার্পেটিং হওয়া অংশে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে হাতের টানেই কার্পেটিং উঠে আসছে। স্থানীয়রা দুশ্চিন্তায় আছেন সড়কের বাকি অংশের কার্পেটিংয়েও একই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হবে।
ইতোমধ্যে সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার সংস্কার কাজ শেষ করা হয়েছে। নিম্নমানের উপকরেণে সংস্কার কাজ হওয়া হাতের টানেই উঠে আসছে কার্পেটিং।
প্রায় ৪০টি স্থানে হাতের টানে উঠে এসেছে সড়কের কার্পেটিং। পরে তড়িঘড়ি করে কার্পেটিং উঠে আসা অংশ মেরামত করছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের অভিযোগ, মানহীন ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় সড়কের এমন বেহাল দশা।
শুধু তাই নয়, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির সময় সড়কের জমে থাকা পানি অপসারণ করেই পিচ ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন। সংস্কারে নয়ছয় ও হেলাফেলা করায় বর্ষায় সড়কটি ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
এদিকে, সড়ক সংস্কারের কাজে অনিয়ম হচ্ছে, এমন অভিযোগ করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের নামে শেরপুর সদর থানায় চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে। মামলার ভয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই এলাকার অনেকেই।
যোগিনীমোড়া এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুদিন আগে সড়কটি মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু ইতোমধ্যে হাতের টানেই সড়কের পিচ কার্পেটিং উঠে আসছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এই সড়ক নির্ঘাত ভেঙে আগের অবস্থায় গিয়ে দাঁড়াবে। তাহলে, কোটি কোটি টাকা খরচ করে সরকার কেন সড়কের মেরামত করছে। এতে সরকারের টাকা অপচয় করা হয়েছে।
ওই এলাকার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ‘বৃষ্টির মধ্যে সড়কের কাজ করা হয়েছে। চটের বস্তা দিয়ে রাস্তার পানি মুছে তারপর পিচ দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে। আমরা মূর্খ মানুষ, আমরাই জানি বৃষ্টির মধ্যে পিচ ঢালাই করলে সেটা থাকে না। পানিতে পিচ ঢালাই করলে সেটা যে থাকবে না, এটা কি কন্ট্রাক্টর আর ইঞ্জিনিয়াররা জানেন না। তাছাড়া কিছু বললেই তারা রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।’
স্থানীয় শহীদ মিয়া বলেন, ‘রাস্তায় কাজের সময় পিচ ঠিকমত দেয়নি। কোনো রকম করে হালকাভাবে পিচ দিয়ে কার্পেটিং করেছে। তাই এই কার্পেটিং শক্ত হয়নি। হাতের ইশারাতেই এই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এ বিষয়টি আমরা প্রতিবাদ করেছি, তাই আমাদের অনেকের নামে চাঁদাবাজির মামলা দিয়েছেন ঠিকাদার।
এ বিষয়ে শেরপুর সদর থানার ওসি জুবাইদুল আলম বলেন, ‘যুগিনীমোড়া সড়ক সংস্কার কাজ করতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন ঠিকাদার, এমন একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এ নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।
সড়কটির নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মিস্টার মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর সড়কটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে দেখা গেছে প্রায় ৩৫-৪০টি স্পটে সড়কের কার্পেটিং উঠিয়ে ফেলা হয়েছেÑ যা দেখেছি তাতে কাজের গুণগতমান ভালো। তারপরও আমরা আমাদের ল্যাবে মালামাল নিয়ে এসেছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ফলাফলের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এটাতো আরসিসি কাজ না যে, বন্ডিং হবে। এটাও বন্ডিং হবে তবে সময় দিতে হবে। শুনেছি ঠিকাদার মামলা করেছে।