পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ ১১:১১ এএম
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ ১৩:৫৭ পিএম
আজ ৮ ডিসেম্বর পটুয়াখালী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পটুয়াখালী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়। শহরকে হানাদার মুক্ত করে লাল সবুজের পতাকা ওড়ান স্বাধীনতা যুদ্ধের সূর্য্ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে হানাদার সেনারা দেশব্যাপী পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ওই দিন গভীর রাতে তার বার্তা পৌঁছে পটুয়াখালী জেলা সংগ্রাম কমিটির কাছে। পরদিন ২৬ মার্চ পটুয়াখালী মহিলা কলেজে কন্টোল রুম খোলে বীর মুক্তিযোদ্ধারা। মহিলা কলেজের পাশে জুবিলী স্কুলে শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ। পটুয়াখালী সংগ্রাম কমিটির হাতে হাতে মেলান স্থানীয় অকুতভয় তরুন যুবকরা। তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবদুল আওয়াল পটুয়াখালী পুলিশ লাইন অস্ত্রাগার থেকে ৬৫টি রাইফেল তুলে দেন মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে।
পটুয়াখালী ছিল ৯ নম্বর সেক্টরের একটি সাব সেক্টর। এ সাব সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন কে এম নুরুল হুদা (সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার) সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন হাবিবুর রহমান শওকত।
বর্তমান ডিসির বাংলোর পূর্ব পাশে পাক বাহিনীর সঙ্গে বন্ধুক যুদ্ধে ৭ আনসার ও মাতবর বাড়ির সামনে ১৭ মুক্তিসেনা শহীদ হন।
১৯৭১ সালের ২৬ এপ্রিল পটুয়াখালী শহরে হামলা চালায় পাকিস্তানি বেশ কয়েকটি জঙ্গি বিমান। সেদিন বৃষ্টির মতো গোলাবর্ষণ ও মেশিনগানের গুলি ছুড়ে ধ্বংস করে দেয় পটুয়াখালী শহর। এ সময় প্রান বাঁচাতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ওই সময় শহর সংলগ্ন লোহালিয়া ও লাউকাঠী নদীতে ঝাপ দেন। পটুয়াখালী শহরের পুরান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। চাঁদমারী, কালিকাপুর, মাতবার বাড়ি ও ডিসি বাংলার দক্ষিণ পার্শ্বে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে বহু মানুষকে।
১৯৭১ সালের ১৮ নভেম্বর গলাচিপা উপজেলায় পানপট্টিতে সংগঠিত হয় জেলার সবচেয়ে ভয়াভয় যুদ্ধ। টানা ৮ ঘণ্টা উভয় পক্ষের গোলাগুলিতে প্রায় অর্ধশত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। পরে ৩৮৫ সেনাসহ মেজর ইয়ামিন খান পালিয়ে পেতে বাধ্য হন।
১৯৭১ সারে ৬ ডিসেম্বর মুক্তি সেনারা পটুয়াখালী শহরের চারিদিকে অবস্থান নিয়ে চূড়ান্ত হামলার প্রস্তুতি নেন। পরের দিন ৭ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের শহর দখলের খবর টের পেয়ে হানাদার বাহিনী আচমকা পটুয়াখালী শহরে কারফিউ জারি করে দুইটি লঞ্চযোগে পটুয়াখালী মহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। ৮ ডিসেম্বর খুব ভোরে পটুয়াখালী শহর শক্র মুক্ত হয়।
দিবসটি পালন উপলক্ষে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, শহীদ স্মৃতি পাঠাগার, উদীচী, খেলাঘর, দখিনা নাট্যমঞ্চ, সুন্দরমসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।