রাজবাড়ী সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ ১০:৪৩ এএম
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ ১৩:৫৯ পিএম
ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে হয় গ্রামবাসীদের। ছবি : প্রবা
দুদুখানপাড়া খালের এপার-ওপার যাতায়াতে একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। ওই খালটি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার জৈনদ্দিন সরদারপাড়া ও সাহাজদ্দিন মাতুব্বরপাড়ার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। স্থানীয়দের তৈরি ওই সাঁকো ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় ছয় গ্রামের মানুষকে। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়া স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।
পাশের ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের গঞ্জুর মাতুব্বরপাড়া ও দুর্গাপুর গ্রাামের মানুষজনের খাল পারাপারে একমাত্র ভরসা নড়বড়ে এ সাঁকোটি।
গোয়ালন্দ উপজেলার পূর্ব উজানচরের দুদুখানপাড়া দিয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলায় বয়ে গেছে খালটি। সারা বছরই এ খালে পানি থাকে। জৈনদ্দিন সরদারপাড়া ও সাহাজদ্দিন মাতুব্বরপাড়া দিয়ে বহমান ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১৩০ ফুট চওড়া খালটির দুই পাশে ছয়টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বসবাস করে।
কাঁধে সাইকেল নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছে স্কুলছাত্র। ছবি : প্রবা
কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের জনসাধারণ ও কৃষিপণ্য পারাপারে বড় সমস্যা এখন এ খালটি। সেতু না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়দের বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে। ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে নিজ উদ্যোগে সাঁকো তৈরি করে পারাপার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের। সাঁকো পার হতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শিশু শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও নারীরা।
খালে সেতু না থাকায় দুই পাশের পূর্ব উজানচর, জৈনদ্দিন সরদারপাড়া, সাহাজদ্দিন মাতুব্বরপাড়া, ফরিদপুর সদরের ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের গঞ্জুর মাতুব্বরপাড়া, দুর্গাপুরসহ ছয় গ্রামের হাজার হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা এখন নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। এ ছয়টি গ্রামে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস।
স্থানীয় আমির হোসেন জানান, স্বাধীনতার পর ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে এ খালে তারা বাঁশের সাঁকো তৈরি করে পারাপার হচ্ছেন। প্রতিদিন ছয়টি গ্রামের শত শত মানুষ এ সাঁকো পারাপার হয়। এ ছাড়া পাশের ফরিদপুর সদর উপজেলার আরও তিন-চারটি গ্রমের মানুষও এ সাঁকো ব্যবহার করে।
একই এলাকার আবদুল খালেক, রহিম ব্যাপারী, রহিমা বেগমসহ কয়েকজন তাদের দুর্ভোগের কথা জানান।
আবদুল খালেক বলেন, ‘দুই পাশের হাজার হাজার একর জমির ফসল, স্কুলের ছোট ছোট শিক্ষার্থী, রোগী ও নারীদের চলাচলে খুব সমস্যা হচ্ছে। মাঝেমধ্যে এ সাঁকো দিয়ে পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। তাই দ্রুত খালের ওপর সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।’
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মৃধা বলেন, ‘এলাকার পাঁচ-ছয়টি গ্রামের কয়েকশ পরিবারের হাজার হাজার মানুষ ওই সাঁকো দিয়ে নিয়মিত চলাচল করে। ওই খালের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’
ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় গ্রামবাসীদের। ছবি : প্রবা
রাজবাড়ীর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন স্থানে সেতুর প্রকল্প চলমান রয়েছে। ওই প্রকল্পে এই সেতুটি অন্তর্ভুক্ত করা গেলে সেখানে সেতু তৈরি করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন তিনি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘জনস্বার্থে আমি সেতুর স্থানটি পরিদর্শন করেছি। জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘবে সেখানে সেতুর চাহিদা নিয়ে এরই মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি, চাহিদাও দেওয়া হয়েছে। সেতুটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার চেষ্টা করব।’