গভীর নিম্নচাপ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৫ ২২:৫৪ পিএম
সাগরদ্বীপ ও খেপুপাড়ার মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করেছে বঙ্গোসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি। এর ফলে সারা দেশেই প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) কোথাও কোথাও হালকা, মাঝারি ও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হয়েছে। বৃষ্টির কারণে পটুয়াখালীর গলাচিপায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ৪ গ্রাম ও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পৌর শহরসহ ২০ গ্রামসহ দেশের কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এদিকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে জোয়ারের পানিতে ডুবে দানু মিয়া নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে প্রতিদিনের বাংলাদেশের প্রতিবেদকদের পাঠানো খবরে।
নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপথে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। ফেনী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোণাসহ ৬ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কায় কন্ট্রোল রুম খুলেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, বৃহস্পতিবার গভীর নিম্নচাপে কারণে মোংলায় ২.২৫ মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আবহাওয়ার ৪ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বঙ্গোসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি সাগরদ্বীপ ও খেপুপাড়ার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করেছে। বর্তমানে এটি সাতক্ষীরা ও তার কাছাকাছি এলাকায় স্থলগভীর নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর/উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তারও আগে ২৭ মে সকাল ৯টা বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির কথা জানান আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক।
এদিকে গভীর নিম্নচাপের কারণে সারা দেশে ২ হাজার ৬৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ২৮, ঢাকায় ৭৯৩, বরিশালে ৪৫৬, খুলনায় ১৫২, রাজশাহীতে ৯১, সিলেটে ৪৯, ময়মনসিংহে ৪৭ ও রংপুরে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তা ছাড়া স্থান হিসেবে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে মাইদীকোর্টে ১৬৮ মিলিমিটার।
জোয়ারের পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দানু মিয়ার
মহেশখালী (কক্সবাজার) জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে মহেশখালীতে বাড়তি জোয়ারের পানিতে ডুবে দানু মিয়া (৪২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
লক্ষ্মীপুরে নৌ-চলাচল বন্ধ
লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপের কারণে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদী উত্তাল হয়ে উঠছে। বৃহস্পতিবার ভোর রাত থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি ও মাঝারি আকারে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। নদী উত্তাল হওয়ায় মেঘনা নদীর লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল রুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ
বরিশাল প্রতিবেদক জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতার কারণে ঢাকা বরিশাল রুটের সব লঞ্চ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চের পর ফেরি চলাচলও বন্ধ
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিবেদক জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে পদ্মা নদী উত্তাল হয়ে উঠেছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে সকাল ৯টা থেকে ওই নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়।
উত্তাল ঢেউ আঘাত হানছে ঝাউবাগান ও জিওব্যাগে, বন্ধ ব্যবসাও
কক্সবাজার প্রতিবেদক জানান, গভীর নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। জোয়ার পানি স্বাভাবিক চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে একের পর এক বিশাল বিশাল ঢেউ আঘাত হানছে ঝাউবাগানে ও জিওব্যাগে। ফলে সাগরপাড়ার ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে উপকূলে উঠিয়ে রাখা হয়েছে জেড স্কী ও কিটকট।
মহেশখালীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
মহেশখালী (কক্সবাজার) জানান, মাত্র একদিনের টানা ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে কক্সবাজারের মহেশখালীর উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নেমে এসেছে হাহাকার। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি দুপুর নাগাদ বাড়তে থাকে এবং জোয়ারের পানির তোড়ে প্লাবিত হয় কুতুবজোম, মাতারবাড়ির সাইরার ডেইল, ধলঘাটা ও ছোট মহেশখালীর নিম্নাঞ্চল। লোকালয়ের রাস্তাঘাট, দোকানপাট ও শত শত ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যায়। ভেঙে পড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সকাল থেকে তীব্রভাবে চলছে লোডশেডিং।
পায়রা বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) জানান, গভীর নিম্নচাপের কারণে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গত তিন দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। উত্তাল হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। বেড়েছে নদ-নদীর পানির উচ্চতা। উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পটুয়াখালীর পায়রাসহ দেশের সব সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। নৌযানসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
গলাচিপায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ৪ গ্রাম প্লাবিত
গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক জানান, গভীর নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে গলাচিপা উপজেলায় বুধবার রাত থেকে টানা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সঙ্গে বইছে দমকা হাওয়া। এরই মধ্যে জোয়ারের চাপে একাধিক স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে কয়েকটি গ্রাম। ফলে গলাচিপা পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বেড়িবাঁধের বাইরের এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রায় আড়াই হাজার পরিবার এখন পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘরে ঢুকে পড়েছে জোয়ারের পানি। অনেক পরিবারে চুলা পর্যন্ত জ্বলেনি, দুপুরের খাবার বন্ধ। কুটিয়ালপাড়ার ব্যবসায়ীদের মজুদকৃত ধান, ডাল ও বাদাম পানিতে তলিয়ে গেছে। পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিম্নাঞ্চল বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত।
সুন্দরবনে জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হরিণের মৃত্যু
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিবেদক জানান, বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপের কারণে সুন্দরবন জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে। এতে দুবলারচরে একটি হরিণের মৃত্যু হয়েছে। শেলারচরে ভেসে যাওয়ার সময় একটি হরিণ উদ্ধার করে সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫-৬ ফুট জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা রানা দেব জানান, লঘুচাপের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে সুন্দরবন ৫-৬ ফুট জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে। বন বিভাগের বিভিন্ন টহল ফাঁড়ির কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জোয়ারের পানির তীব্র স্রোতে শেলারচর থেকে একটি হরিণ ভেসে যাওয়ার সময় বনরক্ষীরা হরিণটিকে উদ্ধার করে সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মোরেলগঞ্জে জোয়ারের পানিতে পৌর শহরসহ ২০ গ্রাম প্লাবিত
মোরেলগঞ্জ প্রতিবেদক জানান, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে পৌর শহরসহ ২০ গ্রাম, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্লাবিত হয়ে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত ২ দিন ধরে জোয়ারের পানিতে দুবার ভাসছে পৌরবাসী। ১১০ হেক্টর আউশ বীজতলা ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকরা। স্থানীয়দের দাবি টেকসই বেড়িবাঁধ ও শহর রক্ষা বাঁধের।
চরফ্যাশনে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিবেদক জানান, ভোলার চরফ্যাশনে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৭-৮ ফুট উচ্চতা বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে মাছের ঘের-পুকুর ডুবে কয়েক লাখ টাকা মাছ ভেসে গেছে। এ ছাড়া প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
গত বুধবার চরফ্যাশনে এমন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
১৪ জেলা প্লাবিত ও ৬ জেলায় বন্যার আশঙ্কা
অমাবস্যা ও গভীর নিম্নচাপে বৃষ্টির কারণে উপকূলীয় জেলা ১৪ জেলা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। জেলাগুলো হলোÑ চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের কাছের দ্বীপ ও চর ২ থেকে ৪ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, গভীর নিম্নচাপের ফলে আজ ও আগামীকাল চট্টগ্রাম ও সিলেটের উজানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের ছয় জেলাÑ ফেনী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী ও ফেনী নদীর পানি বাড়তে পারে। আর মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। পরের এক দিনে এসব নদীর পানি কমে যেতে পারে। আগামী ২ দিন চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী ও ফেনী ইত্যাদি নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। এই সময়ে মুহুরী নদীর পানি সমতল বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এই সময়ে ফেনী জেলার মুহুরী নদীর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, মনু, ধলাই, খোয়াই ও সোমেশ্বরী নদীসমূহের পানি সমতল আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এই সময়ে নদীসমূহের পানি সমতল বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এই সময়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলায় উক্ত নদীসমূহের সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে বৃষ্টি হতে পারে আজও। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আবহাওয়ার নিয়মিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো/ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
শনিবার বৃষ্টিপাত অনেকটা কমে আসবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।