কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৫ ২২:৪৯ পিএম
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ, বর্তমানে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন। জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার পূর্বদিকে নির্মাণাধীন মেরিন ড্রাইভের উদ্বোধন হতে না হতেই এটি সমুদ্রগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে।
এমনকি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় কুয়াকাটার বঙ্গোপসাগর এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকাল ৬টায় পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করা এই নিম্নচাপের প্রভাবে বড় বড় ঢেউ সমুদ্র তীরে আছড়ে পড়ছে, যা এলাকাটির নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া জোয়ারের তোড়ে এ মেরিন ড্রাইভটির তিন-চার স্থান থেকে অনেকাংশ ঢেউয়ের তোড়ে সমুদ্রগর্ভে চলে গেছে। শুধু তাই নয়, মেরিন ড্রাইভ রক্ষায় গাইডওয়াল, ওয়াকওয়ে ভেঙে পড়েছে। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নিম্নমানের কাজ এবং সঠিক তদারকি না থাকার কারণে অতিদ্রুত এটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের ধারণা, আয়লা, সিডর বা এ রকমের শক্তিশালী কোনো ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানলে পুরোপুরি নষ্ট হতে পারে নির্মাণাধীন এই সড়ক।
জানা যায়, গত ২০২৪ সালে ৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কুয়াকাটা সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষায় মেরিন ড্রাইভের আদলে ২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ হাতে নেয় কুয়াকাটা পৌরসভা। তবে এ কাজের মান নিয়ে স্থানীয় অনেকের রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ।
স্থানীয়রা জানান, নামেমাত্র মেরিন ড্রাইভ, যেখানে নেই কোনো রড, নেই টেকসই কোনো গাইডওয়াল। কোনোমতে নির্মাণ করায় এটি ভেঙে পড়েছে। পুলিশ বক্স এলাকা, সরদার মার্কেট, ফুচকা মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনার অনেকাংশ ঢেউয়ের তোড়ে ভেঙে পড়েছে। কুয়াকাটা সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের মাইকিং করে সরিয়ে দিচ্ছেন পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা।
গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে উপকূলীয় এলাকায় মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বাতাসের চাপ অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। জোয়ারে নদ-নদীর পানির উচ্চতা ২ থেকে ৩ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েকশ পরিবার। নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে এবং উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া আকারে বয়ে যেতে পারে। তাই পটুয়াখালীর পায়রাসহ দেশের সব সমুদবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সকল মাছধরা ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় করণে পর্যটক এবং উৎসাহী জনসাধারণকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যেন কোনো ধরনের দূর্ঘটনার সম্ভাবনা না থাকে।