মদন-ফতেপুর সড়ক
জিয়াউর রহমান, নেত্রকোণা
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৫ ১৯:৩৯ পিএম
আপডেট : ২৯ মে ২০২৫ ১৯:৫৩ পিএম
নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত মদন উপজেলা। এ উপজেলা সদর থেকে মদন-ফতেপুর ১৪ কিলোমিটার পাকা সড়কটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এলাকার তিনটি ইউনিয়নের কমপক্ষে ৩০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত করে এই সড়ক পথে।
কিন্তু সড়কের দুটি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুটি সেতুরই মাঝখানে ভেঙে গেছে। সেতু দুটির ওপর দিয়ে বর্তমানে ভারী যান চলাচল বন্ধ আছে। এতে স্থানীয়রা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। ফলে অচিরেই সেতু দুটি পুনর্নির্মানের দাবিতে সোচ্চার স্থানীয়রা। কারণ যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনারও আশঙ্কা রয়েছে।
সরজমিন দেখা গেছে, মদন-ফতেপুর সড়কের শ্রীধরপুর এবং পরশখিলা নামক স্থানে ছোট আকারের দুটি সেতু রয়েছে। প্রায় দেড় বছর ধরে সেতু দুটির মাঝখানে ভেঙে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রডগুলো চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। যানবাহন চালক, যাত্রী ও পথচারীদের সতর্কতার জন্য সেতুর ভাঙা অংশের পাশে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হলেও যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিকল্প সড়ক না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই ভাঙা সেতু দিয়ে সাধারণ মানুষ পারাপার হচ্ছেন। তবে বন্ধ আছে পণ্য পরিবহনকারী ভারী যানবাহন।
স্থানীয়রা জানান, সেতু দুটি ভাঙা থাকায় চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের উৎপাদিত ধান উপজেলা সদরে নিয়ে বেচা সম্ভব হচ্ছে না। এতে কৃষকরা পাচ্ছেন না তাদের ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম। দীর্ঘদিন ধরে সেতু দুটির বেহাল অবস্থা হওয়ায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ ক্রমাগতই বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রহুল আমিন বলেন, ‘মদন-ফতেপুর সড়কটি খানাখন্দে ভরে গিয়ে যেমন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে, তেমনই এ সড়কের ওপর থাকা দুটি সেতুও এলাকাবাসীর জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। বিষয়টি বারবার আমরা উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। কিন্তু তিনি ভাঙা সেতুর দুই পাশে দুটি সতর্কতামূলক সাইন বোর্ড দিয়েই কর্তৃপক্ষ দায় সেরেছে। তাই দ্রুত সেতু দুটি পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি চাই।’
স্থানীয় ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার সফি বলেন, ‘এ সড়কটি দিয়ে স্থানীয় তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ৪টি সেতু আছে। দুটি সেতুর স্ল্যাব ভেঙে যাওয়ায় ভারী যান চলতে পারছে না। ছোট ছোট যান ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন সভায় উত্থাপন করা হলেও পদক্ষেপ গ্রহণে কোনো গরজ দেখা যাচ্ছে না।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মদন উপজেলা প্রকৌশলী এসএম শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এরই মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারকে নিয়ে ওই দুটি সেতু পরিদর্শন করেছি। দুটি সেতুরই অবস্থা মোটেই ভালো নয়। খুবই বেহাল দশা। স্যার আমাকে বলেছেন এস্টিমেট তৈরি করার জন্য। দুয়েক দিনের মধ্যেই এস্টিমেট তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হবে। আশা করছি, খুব দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন পাবে।’