বান্দরবান
বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৫ ১৯:৩৬ পিএম
আপডেট : ২৯ মে ২০২৫ ১৯:৪৭ পিএম
বান্দরবান সদর উপজেলার থোয়াইংগ্যা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে সাবাড় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাহাড় কাটার ফলে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষাকালে ভূমিধসের শঙ্কা বাড়ছে, যা স্থানীয় জনপদ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত তিন দিন ধরে দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে পাহাড় কাটা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে পরিবেশের ভারসাম্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি হুমকির মুখে পড়ছে আশপাশের জনপদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের সীমানা ঘেঁষে থাকা সবুজে আচ্ছাদিত উঁচু পাহাড়টি অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কেটে বিক্রির উদ্দেশ্যে সরিয়ে নিচ্ছে।
বুধবার (২৮ মে) দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বর্ষার কারণে কাঁচা রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। এর মাঝেই এক্সকাভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি ট্রাকে তোলা হচ্ছে। এসব মাটিবোঝাই ট্রাক প্রতিদিন বিদ্যালয়ের সামনে দিয়েই চলাচল করছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বহুগুণ।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেশিন দিয়ে পাহাড় কাটা হচ্ছে। এতে শুধু পরিবেশ নয়, আমাদের বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। স্কুলপড়ুয়া শিশুদের জন্যও এটি বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। পাহাড় ধসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চন্দন কান্তি দেবনাথ বলেন, বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের সংলগ্ন এলাকায় সারাদিন ধরে চলছে পাহাড় কাটা ও ট্রাক চলাচল। বর্ষার কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ট্রাকচালক মামুন ও সাইফুল ইসলাম বলেন, পাঁচটি ট্রাক দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ বার করে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। এক্সেকাভেটর চালক জামাল উদ্দিন বলেন, বালাঘাটা এলাকার নাজিম উদ্দিনের নির্দেশে কাজ করছি। প্রতি ট্রাকে ১৩০ টাকার বিনিময়ে মাটি কাটার কাজ করছেন।
পাহাড় কাটার দায়িত্বে থাকা নাজিম উদ্দিন বলেন, স্বর্ণমন্দির এলাকায় ভরাট কাজের জন্য মাটি নেওয়া হচ্ছে এবং আমি উপঠিকাদার হিসেবে কাজ করছি। পাহাড় কাটা অনুমোদন আছে কি না জানতে চাইলে, তিনি কোনো উত্তর না দিয়েই স্থান ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান অফিসের পরিদর্শক নুর উদ্দিন বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বান্দরবান সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। যারা অবৈধভাবে পাহাড় কাটছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।