মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৫ ১৮:৫৮ পিএম
প্রবা ফটো
একদিনের টানা ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে কক্সবাজারের মহেশখালীর উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সাগরের ওপর ঘনীভূত লঘুচাপ নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় হঠাৎই জোয়ারের পানি স্বাভাবিক চেয়ে দ্বিগুণ উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পানিতে ডুবে দানু মিয়া নামে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি দুপুর নাগাদ বাড়তে থাকে এবং জোয়ারের পানির তোড়ে প্লাবিত হয় কুতুবজোম, মাতারবাড়ির সাইরার ডেইল, ধলঘাটা ও ছোট মহেশখালীর নিম্নাঞ্চল। লোকালয়ের রাস্তাঘাট, দোকানপাট ও শত শত ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। রয়েছে লোডশেডিংও।
সাগরে ঘনীভূত লঘুচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় হঠাৎই জোয়ারের পানি স্বাভাবিক চেয়ে দ্বিগুণ উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। মহেশখালীর মূল সড়ক। পানি ঢুকে পড়েছে বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে। অনেকের সম্পদ পানির তোড়ে ভেসে যায়।
উপজেলার ছোট মহেশখালী, কুতুবজোম, মাতারবাড়ির জালিয়াপাড়া ও ধলঘাটা ঘুরে দেখা যায়, উপকূলীয় এলাকার লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে কক্সবাজার উপকূলে স্বাভাবিকের চেয়ে ২ থেকে ৩ ফুট উচ্চতায় জোয়ার হতে পারে। নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপকূলের নিকটবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেইসঙ্গে ছোট ট্রলার ও নৌযানকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে।
সাগরের ঢেউয়ের ধাক্কায় বদরখালী নৌ-চ্যানেলে অবস্থানরত বহু ফিশিং ট্রলারের জাল ছিঁড়ে গেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য তীরে ফিরে এসেছে।

জেলেরা জানান, কয়েকদিনের খরচের জন্য সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন, কিন্তু উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের মুখে পড়ে প্রায় সব জাল ছিঁড়ে গেছে। জেটিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, অনেক জেলে বসে ছেঁড়া জাল মেরামতের কাজে ব্যস্ত। তারা দুর্যোগে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন।
জালিয়াপাড়া এলাকার সোনা মিয়া জানান, তার শেষ সম্বল ছিল ঘরটি, সেটিও এখন সাগরে বিলীন হওয়ার পথে।
তিনি বলেন, নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি পরিবারের সবাইকে নিয়ে। ঘরটি সরিয়ে নেয়ার সামর্থ্য আমার নেই।
একই গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতি বছর এই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এবার ঘরে পানি ঢুকে সব নষ্ট হয়ে গেছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সকাল ১১টা থেকে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌরুটে সী-ট্রাক চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের সাগর তীরবর্তী এলাকাগুলোর মানুষজনকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া দুর্গত এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেদায়েত উল্যাহ বলেন, উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং দুর্যোগ পরবর্তী সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন। বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।