গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৫ ১৭:০৫ পিএম
আপডেট : ২৯ মে ২০২৫ ১৭:০৮ পিএম
প্রবা ফটো
গভীর নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় বুধবার রাত থেকে টানা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সঙ্গে বইছে দমকা হাওয়া। এরই মধ্যে জোয়ারের চাপে একাধিক স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে চারটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারও বাসিন্দা।
জানা গেছে, গলাচিপা পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বেড়িবাঁধের বাইরের এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাসিন্দাদের ঘরে ঘরে জোয়ারের পানি ঢুকেছে। এতে জ্বলেনি তাদের চুলা। এভাবে প্রায় আড়াই হাজার পরিবার এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে কুটিয়ালপাড়ার ব্যবসায়ীদের মজুত করা ধান, ডাল ও বাদাম পানিতে তলিয়ে গেছে। পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিম্নাঞ্চল বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
নদীবেষ্টিত এই উপজেলার সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ফেরি। কিন্তু জোয়ারের পানিতে ফেরির জেটি তলিয়ে যাওয়ায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এদিকে পানপট্টি ইউনিয়নের ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পানপট্টি বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ৫৫/৩ নম্বর পোল্ডারের প্রায় ১০ থেকে ১৫ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে বিবির হাওলা, গুপ্তের হাওলা, সুতিরাম ও খরিদা গ্রামসহ চারটি গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রানা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আরও ১০-১২টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। ফলে প্রায় ১৫-২০ হাজার মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছেন। লবনাক্ত পানিতে তলিয়ে গেছে ফসিল জমি, পুকুর ও ঘের। ঝরে গাছ উপড়ে বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বেড়িবাঁধবিহীন চর কাজল ইউনিয়নের চর শিবার ধলার চর এলাকায় ২০০টি ঘর তলিয়ে গেছে। এছাড়া বড় চর কাজলের ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড তলিয়ে যাওয়ায় আরও ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
গলাচিপা সদর ইউনিয়নের আগুনমুখা চরের ৬০টি ঘর এবং চর কারফারমার ৯০টি ঘর পানিতে ডুবে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা হালিম মিয়া। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার আতঙ্কে আছে ডাকুয়া, গজালিয়া, কলাগাছিয়া ও নলুয়াবাগীর মানুষ।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত সহায়তা দেওয়া হবে।