× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কোরবানির জন্য প্রস্তুত ১৫ হাজার পশু

সাইফুল ইসলাম, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৫ ১১:০৮ এএম

আপডেট : ২৯ মে ২০২৫ ১১:১০ এএম

কোরবানির জন্য প্রস্তুত ১৫ হাজার পশু

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার গরু, ছাগল ও দুম্বা। উপজেলার ২৩টি বড় খামারসহ মোট ২৫০টি খামারে এসব পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। এসব পশু প্রাকৃতিক উপায়ে, রাসায়নিকমুক্ত খাদ্য খাইয়ে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মোটাতাজা করা হয়েছে। খামারিরা বলছেন, ভারত সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশ না করলে তারা লাভবান হবে এবং ন্যায্যমূল্য পাবে।

এবার রূপগঞ্জে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ১৩টি স্থানে বসবে কোরবানির পশুর হাট। এর মধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কের পাশে থাকা হাটগুলোতে যানজটের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ঘেঁষে হাট বসছে ভুলতা আল্লাহরদান আড়ত, সাওঘাট বিসমিল্লাহ আড়ত এবং ঢাকা-বাইপাস সড়ক সংলগ্ন নলপাথর ও মায়ারবাড়ি বেস্টওয়ে সিটির হাটগুলো যান চলাচলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

রূপগঞ্জের দাউদপুরের খামারি আব্দুর রাজ্জাক সিকদার বলেন, ২০০৪ সালে ২টি বকনা দিয়ে শুরু করে এখন তার খামারে রয়েছে প্রায় ৩৫টি দেশীয় গরু, যেগুলোর দাম ২ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকার মধ্যে। তিনি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালন করেন এবং তার গরু স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে সেবা না পেয়ে রোগবালাই ঝুঁকিতে বহু খামারি ও কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। এবার ভারতের সীমান্ত দিয়ে চোরাই গরু প্রবেশ না করলে দেশের খামারিরা লাভবান হবে এবং ন্যায্যমূল্য পাবে।

খামার মালিকরা বলছেন, খামার থেকেই কোরবানির পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। ক্রেতারা গরু কিনে খামারেই রেখে যাচ্ছেন। ক্রয়কৃত পশু সুবিধামতো সময়ে ক্রেতাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। হাটের ঝামেলা এড়িয়ে সুস্থ সবল উন্নত জাতের গরুর কারণে এখানকার ফার্মগুলো দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ কারণে ইতোমধ্যেই বিক্রি শুরু হয়েছে কোরবানির পশু। এ ছাড়াও এসব ফার্মের গরুগুলো ক্ষতিকারক কেমিক্যালমুক্ত ও কোনো প্রকার ইনজেকশন প্রদান না করে দেশীয় খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়ে থাকে। এই কারণে কোরবানির ঈদে এখানকার ফার্মের গরুগুলোর চাহিদা তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। খামারিদের আশা অবৈধ পথে ভারত থেকে গরু না এলে লাভবান হবেন তারা।

খামারে কর্মরত ফোরকান মিয়া বলেন, আমরা খড়, ঘাস, ভুসি, কলের পানি এবং ভাতের মাড় খাইয়ে গত ১৩ বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে দেশীয় গরু লালন-পালন করছি। এখানে কোনো রাসায়নিক খাবার বা অস্বাস্থ্যকর কোনো কিছু ব্যবহার করে পশু মোটাতাজা করা হয় না।

স্থানীয় কৃষক মোবারক হোসেন বলেন, কোন গরু ফিট খাওয়ানো আর কোন গরু ঘাস খাওয়ানো তা ক্রেতাকে বুঝতে হবে। ইনজেকশন দিয়ে মোটাতাজা করা পশু শুধু প্রতারণা নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। তাই সবার উচিত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি গবাদিপশু সংগ্রহ করা।

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সজল কুমার দাস বলেন, বছরব্যাপী গরু মোটাতাজাকরণের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ খামারি ও কৃষকদের দিয়ে থাকি। উপজেলার খামারগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও চিকিৎসা সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই ক্রেতাদের কাছে এখানকার ফার্মের গরুর চাহিদা বেশি। এ কারণে কোরবানির ঈদে এখানকার ফার্মের গরুগুলোর চাহিদা তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। এবারের ঈদে রূপগঞ্জের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ আশপাশের জেলাগুলোতেও পশু সরবরাহ করা হবে। কোরবানির হাটকে ঘিরে আমাদের মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় প্রতিটি হাটে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা