রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৫ ১৮:৪৮ পিএম
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদী। এ নদীর তিন থেকে চার স্থানে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ প্রজাতির মা মাছ স্বল্পসংখ্যক ডিম ছেড়েছে।
সোমবার (২৬ মে) রাত ২টার পর জোয়ারের সময় নদীর হাটহাজারীর গড়দোয়ারা ইউনিয়নের নয়াহাট, রাউজানের পশ্চিম গুজরা আজিমের ঘাট ও নাপিতের ঘাটের কাটাখালী এলাকায় ডিম সংগ্রহকারীদের কেউ কেউ ১০ থেকে ১৫টি করে ডিম পেয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাউজান ও হাটহাজারী মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাউজান উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ আলমগীর হোসাইন বলেন, ‘হালদার তিন থেকে চার স্থানে সংগ্রহকারীদের কেউ কেউ ১০ থেকে ১৫টি করে নমুনা ডিম পেয়েছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। তবে পরিবেশ ভালো থাকলে মা মাছ আরও ডিম ছাড়তে পারে।’
প্রচুর বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল হলে হালদায় পুরোদমে ডিম ছাড়ে মা মাছ। গত এপ্রিল মাসের শুরু থেকে পূর্ণ প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ায় নদীতে অপেক্ষায় ছিলেন ডিম সংগ্রহকারীরা। নদীতে মা মাছের আনাগোনাও শুরু হয়েছে। দুই উপজেলার চারটি সরকারি হ্যাচারি ও শতাধিক মাটির কুয়ায় রেণু ফোটানোর জন্য নানা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে প্রশাসন ও সংগ্রহকারীরা।
হালদা নদীতে মাছের ডিম সংগ্রহকারী মুহাম্মদ শফি, মো. কামাল ও রোশাঙ্গীর আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তাদের মতো শত শত ডিম সংগ্রহকারীর চোখ এখন হালদার দিকে। মা মাছেরা কখন পুরোদমে ডিম ছাড়বে, সেই অপেক্ষায় তারা।
হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, নদীর পরিবেশ এখনও ডিম ছাড়ার উপযোগী নয়। কয়েক স্থানে স্বল্প পরিমাণ ডিম পাওয়া গেছে। নদীর পানির টারবিডিটি (ঘোলাটে) এখন ১০০ থেকে ১৫০। এটি ৬০০ থেকে ৭০০ থাকলে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়বে।
হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মো. শফিকুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, চতুর্থ অমাবস্যার জোঁ বা তিথিতে হালদায় নমুনা ডিম ছেড়েছে কার্পজাতীয় মা মাছ। এই জোঁ চলবে ২৫-২৯ মে পর্যন্ত। যেহেতু আজ (মঙ্গলবার) অমাবস্যা শেষ হচ্ছে, তাই আজ রাতে ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে অনুকূল পরিবেশ না পেলে এই জোঁতে পুরোদমে ডিম না ছাড়লে পরবর্তী পূর্ণিমার জোঁতে (৮-১৪) জুন ডিম ছাড়বে মা মাছ।
প্রতিবছর হালদার দুই পাড়ে মা মাছের নিষিক্ত ডিম ধরার অপেক্ষায় থাকেন ৭০০ থেকে ৮০০ জন সংগ্রহকারী। তবে কয়েক বছর ধরে ডিমের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী জুনে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ার আছে। মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, আজ দুপুরে জোয়ারের সময় যদি পাহাড়ি ঢল অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হয়, তাহলে ডিম ছেড়ে দিতে পারে মা মাছ। ডিম সংগ্রহকারীদের সহযোগিতা করতে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নদীতে কাজ করছেন দুই উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।