× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সংযোগ থাকলেও বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রামের মানুষ

ওবাইদুল আকবর রুবেল, ফটিকছড়ি

প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৫ ১৮:৪০ পিএম

আপডেট : ২৮ মে ২০২৫ ১৮:৪৪ পিএম

সংযোগ থাকলেও বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রামের মানুষ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বাগানবাজার ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামে বিদ্যুতের খাম্বা, কেবল, সঞ্চালন লাইন ও ট্রান্সফরমার রয়েছে, তবে এখনও সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়নি। ঘরে ঘরে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন টানলেও এখনও দেওয়া হয়নি বিদ্যুৎ সংযোগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৮ বছর আগে এসব খুঁটি স্থাপন করা হলেও বন বিভাগের আপত্তির কারণে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এলাকাটির বেশিরভাগ অংশ বনাঞ্চল হওয়ায় বন বিভাগের অনুমতি না পাওয়ায় বিদ্যুতায়ন আটকে রয়েছে। এর ফলে এসব গ্রামে বসবাসকারী প্রায় ৮ হাজার মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। গত আওয়ামী লীগ সরকার দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের দাবি করলেও ২০১৯ সাল থেকে অদ্যাবধি ঘরে কবে বিদ্যুতের আলো জ্বলবে তার জন্য অপেক্ষায় এলাকাবাসী।

জানা যায়, উপজেলার বাগানবাজার ইউনিয়নের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চল পানুয়া, পশ্চিম পানুয়া, পূর্ব পানুয়া, উদয়পাথর, নূরপুর, নদোলং, রহমতপুর, তাকিয়াছড়ি, কয়লারমুখ, পূর্ব পাতায়ছড়ি, বাঁশেরখুল, গরমছড়ি, ত্রিপুরাপাড়া, কালাকুম, হার্বাতলীসহ অন্তত ২০টি এলাকা বিদ্যুতায়িত করার প্রকল্প হাতে নেয় চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২। বিদ্যুৎ বিভাগের মাস্টাররোল অনুযায়ী প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থাপন করা হয় বিদ্যুতের খুঁটি, কেবল, সঞ্চালন লাইন। কিন্তু এলাকাটি বনাঞ্চল হওয়ায় বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে আপত্তি জানায় চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ। যার ফলে আটকে যায় প্রায় ৮ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, ইউনিয়নের এক-চতুর্থাংশ এলাকার জনসাধারণ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় নেই মোবাইল নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা। ফলে বহির্বিশ্বের সঙ্গে অনেকটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এখানকার বাসিন্দারা। তবে বিদ্যুতের আলো না থাকলেও বিস্তৃত এলাকাজুড়ে সারিবদ্ধ সবানো রয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। সে খুঁটিতে রয়েছে কেবল; যা থেকে সংযোগ কেবল পৌঁছেছে গ্রামের বিভিন্ন ঘরের দেয়ালে। কিন্তু বিদ্যুৎহীন সে খুঁটি বিন্দুমাত্র আলো জ্বালায় না রাতের অন্ধকারে।

পশ্চিম পানুয়া এলাকার বাসিন্দা পারভেজ হোসেন বলেন, প্রায় ৮ বছর আগে আমাদের এলাকায় বিদ্যুতের তার, খুঁটি স্থাপন করা হলেও বিদ্যুৎ পায়নি। বহুকষ্টে দিন যাচ্ছে আমাদের।

পানুয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার জুড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার স্থাপন করা হলেও আমরা এখনও বিদ্যুৎ পায়নি। অথচ এ বিদ্যুতের জন্য প্রায় ৮২০ গ্রাহকের কাছ থেকে মিটারপ্রতি ২ হাজার করে টাকা নেয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন। তারপরও দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ পায়নি। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম, এজিএম, ডিজিএমের অফিসে অনেক দৌড়াদৌড়ি করছি কাজ হয়নি। শোনেছি এখানে বিদ্যুতায়িত না করতে বন বিভাগের আপত্তি আছে।

নদোলং এলাকার বাসিন্দা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। জনপ্রতিনিধিরা আসে যায়, কিন্তু উন্নয়ন হয় না। বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হলেও এখনও বিদ্যুতের দেখা নেই।

উদয়পাথর এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী সাকিব মিয়া বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় এখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। তাই আমরা অনেকটা পুরো বিশ্ব থেকে বিছিন্ন। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি না। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর হোসেন নুরু বলেন, বাগানবাজারের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুতের খুঁটি, কেবল, সঞ্চালন লাইন টানলেও বন বিভাগের আপত্তির কারণে এখানকার মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। এলাকাটি যদি বন বিভাগের জায়গা হওয়ায় বিদ্যুৎ না পায়, তাহলে ইউনিয়নের অন্যান্য এলাকার মানুষরা কীভাবে বিদ্যুৎ পায়।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর দাঁতমারা সাব-জোনাল অফিসের এজিএম মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বন বিভাগের ছাড়পত্র না পাওয়ায় আমরা সেখানে বিদ্যুতের সংযোগ দিতে পারছি না।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নারায়ণহাট ও করেরহাট রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক হারুন অর রশিদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। পরে খুদেবার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বন বিভাগের আপত্তির কারণে বিষয়টি স্থগিত হয়েছে। সেখানে কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও সেগুলোতেও বিদ্যুৎ নেই। এটি নিয়ে আমরা বিগত সময়ে কাজ করেছি, যাতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত আসে। মানবিক ও জনস্বার্থ বিবেচনায় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন দেওয়া হলে বসবাসকারীদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা