ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৫ ১৮:১৬ পিএম
আপডেট : ২৬ মে ২০২৫ ১৮:১৬ পিএম
মৌলভীবাজারে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পৌর আধুনিক বাস টার্মিনালটি উদ্বোধনের পর থেকেই কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে অব্যবহৃত এ অবকাঠামো এখন পরিণত হয়েছে জরাজীর্ণ এক স্মৃতিচিহ্নে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে নগর পরিচালনা ও উন্নীতকরণ অবকাঠামো প্রকল্প ও মৌলভীবাজার পৌরসভার যৌথ অর্থায়নে শহরের যুগিডর এলাকায় তিন একর জায়গাজুড়ে নির্মিত হয় আধুনিক বাস টার্মিনালটি।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ২০১০ সালের ডিসেম্বরে। উদ্বোধনের পর স্বল্প সময়ের জন্য কিছু আন্তঃজেলা বাস চলাচল করলেও পরে এটি কার্যত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে মহাসড়কের ওপরেই বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করা হচ্ছে। এতে যাত্রীদের পাশাপাশি ভোগান্তি বাড়ছে শহরবাসীর।
জানা গেছে, মৌলভীবাজার শহরে রাস্তার উপর যত্রতত্র গণপরিবহনের অবৈধ স্ট্যান্ড সরিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে আসার পরিকল্পনায় নির্মিত হয়েছিল পৌর বাস টার্মিনালটি। শহর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে যুগিডর এলাকায় তিন একর জায়গাজুড়ে নগর পরিচালনা ও উন্নীতকরণ অবকাঠামো প্রকল্প এবং মৌলভীবাজার পৌরসভার যৌথ অর্থায়নে ২০০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর পৌর বাস টার্মিনাল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ভবন নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কাজ শেষে ২০১০ সালের ১৩ ডিসেম্বর এটির উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর পরিবহন মালিকদের অনীহাসহ নানা কারণে বাস টার্মিনাল তখন চালু করা যায়নি। পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিবহন তথা বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। বৈঠকে আলোচনার পর বাস মালিকরা টার্মিনাল ব্যবহারে সম্মত হলে মৌলভীবাজার থেকে ঢাকা, কুমিল্লা, বগুড়া, পঞ্চগড়, রংপুর, টাঙ্গাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ-সিলেট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জসহ আন্তঃজেলার বিভিন্ন বাস এ টার্মিনাল থেকে চলাচল শুরু করে। কিন্তু তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কিছুদিন পরই বাসগুলো টার্মিনাল থেকে সরে পুনরায় পৌরসভার ভেতরের প্রধান সড়কের ওপরে অবৈধ স্ট্যান্ডে চলে আসে। এখন অবধি মৌলভীবাজার পৌর বাস টার্মিনালটি আর ব্যবহার করা হয়নি। বর্তমানে টার্মিনালটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে একদিকে সরকারের প্রায় ৪ কোটি টাকার অবকাঠামো পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে রয়েছে, অন্যদিকে মৌলভীবাজার শহরে রাস্তা দখল করে গড়ে ওঠা বাসস্ট্যান্ডের কারণে শহরজুড়ে যানজট লেগেই থাকে। এতে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে শহরবাসীর ভোগান্তি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, টার্মিনাল ভবনটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অরক্ষিত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের মেঝের টাইলস ভেঙে গেছে, দেয়ালে ধরেছে ফাটল, বন্ধ টিকিট কাউন্টারগুলোতে জমেছে ধুলো-ময়লা। যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ আর অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা এ অবকাঠামো যেন সরকারি অর্থ অপচয়েরই উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
জেলা বাস মালিক সমিতির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, টার্মিনালটি শহর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে হওয়ায় চালকরা যেতে চান না। এ ছাড়া ওই টার্মিনালে বাস থামলে যাত্রীদেরও পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। যাত্রীদের শহর থেকে টার্মিনালে পৌঁছতে সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। যে কারণে টার্মিনাল ব্যবহারে তাদের অনীহা।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বুলবুল আহমদ বলেন, বাস টার্মিনালের বিষয়টি আমার জানা নেই। যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।