অরুপ রতন, বগুড়া
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৫ ০৯:০৫ এএম
নুনগোলা দাঁড়িয়াল গ্রামে অনুষ্ঠিত মেলায় নানা আকারের ঘুড়ি নিয়ে আসেন ঘুড়িপ্রেমীরা
বগুড়ার সদরের নুনগোলা ইউনিয়নের দাঁড়িয়াল গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে বসেছে শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী দাঁড়িয়াল নিশানের মেলা। স্থানীয়ভাবে এটি ‘ঘুড়ির মেলা’ নামে অধিক পরিচিত। প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের দ্বিতীয় রবিবার এ মেলার আয়োজন করা হয়। হরেক রকমের ঘুড়ির পাশাপাশি মেলায় বিক্রি হচ্ছে তৈজসপত্র, মিষ্টান্ন, খেলনা, প্রসাধনী ও নানা গ্রামীণ পণ্য।
গতকাল রবিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া মেলায় ছিল উপচে পড়া ভিড়, তবে বিকালে বৃষ্টির কারণে কিছুটা ভাটা পড়ে। মেলা সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বেচাকেনা আবার জমে উঠবে।
মেলার ইতিহাস ঘুড়ি উড়ানো কেন্দ্রিক। কথিত আছে, ‘দাঁড়িয়াল’ নামে এক ধরনের ঘুড়ির নাম থেকেই গ্রামের নামকরণ। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আজও এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর মেলায় পাওয়া যাচ্ছে চং, ডাহুক, ঈগল, কয়ড়া, কঙ্কালসহ নানা আকৃতির ঘুড়ি। সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘুড়ি ‘চং’।
ঘুড়ি বিক্রেতা রহমতুল্লাহ সাকিদার বলেন, প্রতি বছরই মেলায় আসি। এবার দেড়শ ঘুড়ি এনেছি, বিক্রি করছি ১২০ টাকা দরে। তবে বৃষ্টির কারণে বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় আছি।
দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ ছিল মাছ আকৃতির ১৫ কেজি ওজনের একটি বিশাল মিষ্টি। এটি এনেছে মেঘা মিষ্টির দোকান। দোকান মালিক মিলন হোসেন বলেন, মিষ্টির কেজি ৫০০ টাকা, পুরোটি ৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করব। এ ছাড়া তার দোকানে রয়েছে চমচম, কালোজাম, হাসি-খুশি, রাজভোগ, কাটারিভোগ ও স্পঞ্জ মিষ্টি।
মেলার বিভিন্ন স্টলে পাওয়া যাচ্ছে খেলনা, তৈজসপত্র, প্রসাধনীসহ নানা গ্রামীণ পণ্য। গ্রীষ্মের ফল আম, লিচু, কাঁঠাল, তরমুজ, জাম, তালের শাঁসসহ রয়েছে ফলের সমাহার। দাঁড়িয়াল মেলা কাঠের আসবাবপত্রের জন্যও পরিচিত। খাট, টেবিল-চেয়ার, শোকেস, দরজা-জানালার দোকান বসেছে মেলায়।
নুনগোলা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান বলেন, এই মেলা কয়েকশ বছরের পুরোনো। প্রতি বছর উৎসবমুখর পরিবেশে মেলা অনুষ্ঠিত হয়। অর্ধশতাধিক গ্রাম থেকে মানুষ মেলায় আসেন। এবার চার শতাধিক দোকান বসেছে। তবে বৃষ্টির কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।