× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মহেশখালী

ধীরে চলো নীতিতে বন বিভাগ

মহেশখালী (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৫ ১৬:১৭ পিএম

আপডেট : ২৫ মে ২০২৫ ১৬:২০ পিএম

ধীরে চলো নীতিতে বন বিভাগ

সোনাদিয়ার প্যারাবন ও উপকূলীয় বনাঞ্চল রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে একের পর এক ঘোষণা আসলেও মাঠপর্যায়ে বন বিভাগের ‘ধীরে চলো’ নীতির কারণে থামানো যাচ্ছে না জীববৈচিত্র্য, বন উজাড় ও জমি দখলের দৌরাত্ম্য। পরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়া এবং দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থা এই ধ্বংসযজ্ঞের মূল কারণ।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. ইউনূস নেতৃত্ব নেওয়ার পর সোনাদিয়া দ্বীপ নিয়ে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সোনাদিয়ায় বেজার (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ) ‘ইকো-ট্যুরিজম প্রকল্প’ বাতিল করে প্রায় ৯ হাজার একর বনভূমি ফেরত দেওয়া, আদালতের নির্দেশে ম্যানগ্রোভ নিধন বন্ধ এবং অবৈধ চিংড়িঘের উচ্ছেদের নির্দেশ পরিবেশ রক্ষায় সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসিত হয়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর শ্লথগতি ও মামলাজট প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় বাধা, এতে দখলদারদের বেপরোয়া আগ্রাসন দিন দিন বেড়ে চলেছে।

মহেশখালীর কুতুবজোম, হোয়ানক ও সোনাদিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে প্রতিনিয়ত প্যারাবন উজাড় করে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন চিংড়িঘের। গভীর রাতে বনাঞ্চলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে শত শত প্যারাবনের গাছ। এরপর সকালে বুলডোজার ও মাটি দিয়ে ভরাট করে তৈরি করা হচ্ছে চিংড়িঘের। এসব কাজ স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রকাশ্যেই চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে কুতুবজোমের পশ্চিম পাড়ায় বিএনপি নেতা আলমগীর চৌধুরী, পূর্ব পাড়ায় আবুল কালাম ও মোহাম্মদ হোসেন এবং ইউপি সদস্য একরাম মিয়া, ইমতিয়াজ উদ্দিন, আব্দুল মোনাফ ও আজিজুল হকের বিরুদ্ধে বন কেটে ঘের নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলা হয় এবং পরে মাটি ফেলে বাঁধ নির্মাণ শুরু হয়।

বন বিভাগের একাধিক অভিযান চালানোর পরও বন উজাড় থেমে নেই। অভিযানের সময় কিছু ঘের ভাঙা হলেও, দখলদাররা পরে আগাম জামিন নিয়ে আবারও কাজ শুরু করে দেয়। স্থানীয়রা মনে করেন, এসব প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের ভেতরের একটি অংশ জড়িত।

প্যারাবন দখলের ঘটনায় একে অন্যকে দোষারোপ করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা। বিএনপি নেতা আলমগীর চৌধুরী দাবি করেন, ঘেরটি তার পৈতৃক সম্পত্তিতে বানানো হচ্ছে। তিনি উল্টো অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ইউপি চেয়ারম্যান শেখ কামাল ও তার ভাই শেখ আলমগীর বন কেটে নতুন ঘের নির্মাণ করছেন। শেখ কামাল পাল্টা অভিযোগে বলেন, আলমগীর এবং তার সহযোগীরাই প্রকৃত বনখেকো এবং দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল চালিয়ে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের পরিবেশবিদ অলিউর রহমান রুশাই বলেন, অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে দখলদারদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, প্যারাবন উজাড়, পাখির আবাসস্থল ধ্বংস এবং নদী দখল করে চিংড়িঘের নির্মাণ বন্ধ না করলে উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় নেমে আসবে।

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, সরকার আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা প্রতিফলিত হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ ও রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া বন রক্ষা সম্ভব নয়। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তব প্রয়োগ ছাড়া এই ধ্বংস ঠেকানো যাবে না বলে তারা মন্তব্য করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেদায়েত উল্যাহ বলেন, কিছু স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘেরের স্থাপনা ভাঙা হয়েছে। তিনি বলেন, পুরো প্যারাবন পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। বরং আগে থেকে কাটা ছোট গাছগুলো পুড়িয়েই ঘের তৈরির প্রক্রিয়া চলেছে। সোনাদিয়ার প্যারাবন এখন ভয়াবহ হুমকির মুখে রয়েছে। দখলদারদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলী বলেন, সোনাদিয়ার প্যারাবন আগুনে পুড়লেও বন বিভাগের পক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ জায়গাটি বেজার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে মামলা করা বা দখল রোধ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের এই দায়সারা মনোভাবই দখলদারদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।

মহেশখালীর প্রতিটি প্যারাবনের প্রস্থ ৩০০-৪০০ মিটার এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার। ভেতরের খালগুলো এই বনাঞ্চলকে একাধিক খণ্ডে বিভক্ত করেছে। ১৯৬৫-৬৬ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মহেশখালীতে মোট ১০,৭০০ হেক্টর প্যারাবন এবং ৬০ হেক্টর ঝাউবন সৃজিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এই বিস্তৃত বনভূমি দখল, আগুন এবং ঘের নির্মাণের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। বন বিভাগের সীমিত জনবল, রাজনৈতিক চাপ ও প্রশাসনের নীরবতা এই সংকট আরও গভীর করে তুলেছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা