বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৫ ২২:০৮ পিএম
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল এখনও সংগঠিত হয়নি, তাদের সময় প্রয়োজন। কেউ কেউ আবার ঐক্য গড়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই কারণে কি গোটা দেশকে অপেক্ষায় রাখা হবে? জনগণ আর সময় দিতে রাজি নয়। জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দিতে হবে।
শনিবার (২৪ মে) বিকালে শহরের সূত্রাপুর সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ আয়োজনে ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংস্কার অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সব ধরনের সংস্কার এই সরকারের দায়িত্ব নয়। আমরা বলেছি, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে যে সংস্কারগুলো জরুরি, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সম্পন্ন করে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, তারা জুন মাসের মধ্যেই প্রস্তুত হবে। তাহলে ডিসেম্বরেই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, স্থায়ী নয়, নির্বাচিতও নয়। তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করে সরে যেতে হবে। জনগণ একটি স্থায়ী সরকার চায়। আগের ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার দেশের প্রতিটি খাত ধ্বংস করেছে। সেই ধ্বংসাবশেষ থেকে দেশ পুনর্গঠনে তারেক রহমান ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছেন। যারা সংস্কারের কথা বলেন, তারাও মূলত এই ৩১ দফার বাইরে কিছু বলছেন না।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. ইউনুস একজন গুণী মানুষ, এতে সন্দেহ নেই। তবে তিনি তার নাতি-নাতনিদের বয়সি উপদেষ্টাদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন, যার ফলে কিছু ভুল হচ্ছে। এসব ঠিক করা দরকার। এখন আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি, যা শেখ হাসিনার আমলে অসম্ভব ছিল।
রিজভী আরও বলেন, মানবিক করিডোর ও চট্টগ্রাম বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সেটিকে অপরাধ বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। নির্বাচনের কথা বললেও উপদেষ্টাদের মধ্যে বিরক্তি দেখা যায়। অথচ আমরাও নিপীড়নের শিকার হয়েছি, আন্দোলন করেছি। এখন যদি শান্তি ও ন্যায়ের কথা বলি, তাহলে এত উষ্মা কেন?
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির। বক্তব্য দেন যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু ও মাহবুবুর রহমান, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রমুখ।