মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৫ ১৬:১৬ পিএম
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প অর্থ সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে। ৩১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচ তলাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল ভবন ও চিকিৎসা অবকাঠামো নির্মাণের কথা থাকলেও মাত্র ৩০ ভাগ কাজ শেষ করেই বন্ধ হয়ে গেছে নির্মাণ কার্যক্রম। ফলে চিকিৎসাসেবায় মারাত্মক সংকটে পড়েছে এ উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ।
এখানে মঠবাড়িয়া, ভাণ্ডারিয়া, বামনা ও পাথরঘাটাসহ সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরোনো হাসপাতাল ভবন ও অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে আগেই। ফলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। বর্তমানে অবকাঠামো ও চিকিৎসক সংকটে রোগীরা এখানে অবস্থান করতে না পেরে বরিশাল ও খুলনায় যাচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ৩১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। দরপত্র আহ্বানের পর মেসার্স মাজেদা এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স অনিক ট্রেডার্স নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের দায়িত্ব পেয়ে যৌথভাবে নির্মাণকাজ শুরু করে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৩০ শতাংশ কাজের পর প্রকল্পের বাকি কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখে। প্রকল্পে পাঁচ তলাবিশিষ্ট ১০০ শয্যার নতুন হাসপাতাল ভবন, কনসালট্যান্ট ল্যাবরেটরি, লিফট, ইউএইচএফপিও কোয়ার্টার, স্টাফ ডরমেটরি, অক্সিজেন ভবন, দ্বিল গ্যারেজ কোয়ার্টার, বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন, হাসপাতাল চত্বরে সড়ক ও নানা দৃষ্টিনন্দন কাজ অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নতুন হাসপাতালের মূল ভবনের তিন তলা কাজ সম্পন্ন করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মারুফ হোসেন শাকিল বলেন, আমরা প্রায় ৫১ ভাগ কাজ শেষ করেছি। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার ডা. ফেরদৌস ইসলাম বলেন, বর্তমানে অবকাঠামো নির্মাণ সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। হাসপাতালের একটি অপরিসর পুরাতন কোয়ার্টারে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। ডায়রিয়া রোগীসহ অন্যান্য ভর্তিকৃত রোগীদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া দুষ্কর। তিনি আরও বলেন, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩২টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ছয়জন চিকিৎসক কর্মরত। ফলে ২৫টি চিকিৎসকের পদ খালি। পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের এ উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী অন্তত পাঁচটি উপজেলার সীমান্তবর্তী মানুষ এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাকিল সরোয়ার বলেন, আধুনিক সুবিধাসংবলিত বিশিষ্ট নতুন হাসপাতাল ভবন ও নানা অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে সাময়িক অর্থ সংকট দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া গেলে পুনরায় কাজ শুরু হবে।