কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:২২ পিএম
আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:২৫ পিএম
কক্সবাজারের জনসভায় বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : প্রবা
কক্সবাজারবাসীর কাছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চাইলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের জনসভা মঞ্চ থেকে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে উপস্থিত জনতার হাত তুলে ওয়াদা করান তিনি।
বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিকালে জনসভা মঞ্চ থেকে এই ওয়াদা করিয়ে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ দিন বিকাল ৩টা ৫২ মিনিটের দিকে সভাস্থলে এসে পৌঁছান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এর পর তিনি সারাসরি প্রকল্প উদ্বোধন মঞ্চে যান। সেখানে ২৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৪টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এর পর মঞ্চে গিয়ে বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন শেখ হাসিনা। ৪টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত বক্তব্য দেন তিনি। ৩০ মিনিটের বক্তব্যে কক্সবাজারের উন্নয়নে মেগা প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে আরো উন্নয়নের ঘোষণা দেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, 'আপনারা ২০১৮ সালে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন, আমরা আপনাদের এই কক্সবাজারের উন্নয়ন করেছি, পর পর তিনবার ক্ষমতায় আসতে পেরেছি, ধারাবাহিকভাবে সেই ২০০৯ সাল থেকে এই ২০২২ পর্যন্ত দেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বলবৎ আছে বলেই আজকে উন্নয়ন হচ্ছে এবং বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘২০২৩ এর পরে ২০২৪ এর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন হবে। আমি আজ সেই নির্বাচনে আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই।’
এরপর নৌকা ভোট দেওয়ার জন্য উপস্থিত জনতার হাত তুলে ওয়াদা করিয়ে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশে কোনো মানুষ ঠিকানাহীন থাকবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেকোন এলাকার ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষের তথ্য আমাকে জানান। তাদের জমিসহ ঘর দেওয়া হবে। বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধশীল দেশে রূপান্তরের কাজ চলছে। ২০৪১ সালে আমরা সে লক্ষ্যে পৌঁছাব, ইনশাল্লাহ।’
বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাময় সোনালী সৈকত কক্সবাজার পর্যটনের জন্য সবচেয়ে উন্নত জায়গা মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতাকে হত্যার পর এরশাদ সরকার এসেছে, খালেদা জিয়ার সরকার এসেছে। তারা কেউ এই কক্সবাজারের মানুষের দিকে ফিরে তাকায়নি। এখানে কোনো উন্নয়ন করে নাই। একমাত্র আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এসেছে তখনই কক্সবাজারের উন্নয়ন হয়েছে। আমি আপনাদের এলাকায় ২৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছি, চারটি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছি। এ সব এবার বিজয়ের মাসের উপহার।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কক্সবাজারের লবনচাষীরা এক সময় খুব কষ্ট পেত। আমরা বিরোধী দলে থাকতে সেই বদরখালীতে লবনচাষী এবং চিংড়িচাষী সম্মেলন করেছি। ক্ষমতায় আসার পর লবনচাষীদের সার্বিক উন্নতির জন্য ব্যবস্থা নিয়েছি। লবনচাষীরা যেন আরও আধুনিক পদ্ধতিকে লবন চাষ করতে পারে আমরা সে পদক্ষেপ নিয়েছি। নিজের দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাইরে রপ্তানি করতে পারি সেই ব্যবস্থাও আমরা নেব।’
মহেশখালীতে গভীর সমুদ্রবন্দর, সোনাদিয়াতে ইকোপার্ক নির্মাণ, টেকনাফ সাবরাংসহ কক্সবাজারে ৬টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথা উল্লেখ করে ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে বাংলাদেশে ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা হয়েছে। খালেদা-তারেক মানুষ হত্যা, অগ্নিসংযোগ, গুম ছাড়া কিছু করতে পারে না। অস্ত্র চোরাকারবারের মামলায় অভিযুক্ত তারেক জিয়া জঙ্গিবাদের মদদদাতা। তারা ধ্বংস ছাড়া কিছুই পারেনা।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি বাবা, মা ও ভাই সবাইকে হারিয়েছি। নতুন করে হারানোর কিছু নেই। হারানোর কষ্ট কী, আমার চেয়ে কেউ ভালো বুঝবে না। আপনাদের মাঝে বাবা মায়ের স্নেহ, ভাই-বোনের ভালবাসা আশা করি। আপনারা আমার পরিবার। আপনরা আমাকে আগলে রেখেছেন। আমার একমাত্র চাওয়া, যতক্ষন ক্ষমতায় থাকব দেশের মানুষের আহার সংস্থান করা আমার কাজ। টিসিবির মাধ্যমে সস্তায় চাল, ডাল, তেল, চিনি পাওয়ার সু-ব্যবস্থা করেছি। একজন মানুষও অভূক্ত থাকবে না।
শেষে কক্সবাজারের চলমান উন্নয়ন বিবেচনা করে উপস্থিত জনতাকে নৌকায় ভোট দেওয়ার ওয়াদা করিয়ে তিনি বলেন, ‘আবার আসিব ফিরে, এই সৈকতের তীরে।’
এদিন দুপুর ১২টার পর কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জনসভার আনুষ্ঠানিকতা। এর পর কক্সবাজারের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা একে একে বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সকাল ১১টার পর উখিয়া উপজেলার সমুদ্র তীরবর্তী ইনানীতে আন্তর্জাতিক নৌ মহড়া উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় বাংলাদেশসহ ২৮টি দেশের নৌবাহিনী অংশগ্রহণ করছে।