রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৫ ১৮:১৭ পিএম
আপডেট : ১৯ মে ২০২৫ ১৮:১৮ পিএম
পানিসম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, রাজশাহী নাটোরের ওপর দিয়ে প্রবাহমান বড়াল নদীর প্রান প্রবাহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। বড়ালের ১৮ কিলোমিটার এলাকায় পানিপ্রবাহ কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায় তা নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে।
সোমবার (১৯ মে) রাজশাহীর চারঘাটে বড়াল নদীর উৎস মুখ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বড়ালের উৎস মুখে চারঘাট স্লুইসগেটটি সরিয়ে ফেলা হলে সমাধান হবে কিনা, পানির প্রবাহ আসবে কিনা তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে আটঘরিয়ার দিকে যুক্ত নদীর আরও ১৮ কিলোমিটার খনন করে এর প্রবাহ আনা যাবে কিনা, সেটির কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে বড়াল নদীর কতটুকু আমরা ফেরত পেতে পারি, সেজন্য কি পরিকল্পনা হতে পারে, সেটা পানির উন্নয়ন বোর্ড ঠিক করবে। আমার পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে বার্তা হচ্ছে- নদীটিকে একটা প্রাণ ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক সিস্টেম হিসেবে দেখেই পরিকল্পনা করতে হবে।
তাই পরিবেশ অধিদপ্তর, নদী রক্ষা কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে একটা ব্যয় সাশ্রয়ী পরিকল্পনা করতে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বড়াল নদী প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য কর্মপরিকল্পনা যেন আমরা চূড়ান্ত করে যেতে পারি, সেই চেষ্টাটা অব্যাহত থাকবে। বাকি কাজটুকু পরবর্তী সরকার এসে করবে।
বালু ও ভূমিদস্যুতা বর্তমানে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, ৬৪ জেলার ডিসি এবং এসপিদেরকে বালুর উত্তোলন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং গত সপ্তাহে তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এক সভা থেকে তাদেরকে এ বিষয়ে ১০ দফা নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। দেশের সব প্রশাসনকে বলা হয়েছে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করে রাতেও অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে। অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে সরকার শক্ত অবস্থান নিয়েছে। আমরা সমগ্র দেশের জেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে মনিটর করছি।
ফারাক্কার পানি বন্টন চুক্তি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চুক্তিটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে। এ চুক্তির অধীনে দুই দেশের একটি টেকনিক্যাল কমিটি নিয়মিতই মাঠপর্যায়ে তথ্য উপাত্ত নিচ্ছে। চুক্তিটা নবায়ন করার ক্ষেত্রে তথ্য উপাত্ত যা দরকার তা নিয়মিত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এটা আমাদের ন্যায্য হিস্যা, এটার জন্য আমরা আমাদের অধিকারের জায়গা থেকে কথা বলব। যেহেতু আমাদের হাতে আরও দেড় বছর সময় আছে সেহেতু আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি।
এসময় পানি উন্নয়ন বোর্ড উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল জোনের প্রধান প্রকৌশলী মুখলেসুর রহমান, নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পরিকল্পনা মোবাশ্বেরুল ইসলাম, রাজশাহী পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলামসহ রাজশাহী জেলা প্রশাসনের ঊদ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।