বেড়া (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৫ ১৭:৫৫ পিএম
প্রবা ফটো
পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুরের কাজিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে গতকাল ও আজ সোমবার ৪১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছ। হঠাৎ এমন ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফরহাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় যষ্ঠ, সপ্তম ও নবম শ্রেণীকক্ষে ৩৫ জন শিক্ষার্থী হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক তাদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের বাড়ি নিয়ে যায়।
একইভাবে গতকাল রবিবার বেলা ৩টার দিকে বিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষর্থী অচেতন হয়ে পড়ে।
বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাতেমা খাতুন জানায়, শ্রেণীকক্ষে এক ধরনের গন্ধ তার নাকে আসলে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে অচেতন হয়ে পড়ে সে।
সপ্তম শ্রেণীর জাকিয়া সুলতানার ভাষ্য, প্রতিদিনের মতই আজ ক্লাস করছিল সে। বুঝতে পারছিল হঠাৎ করেই তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। জ্ঞান ফিরলে দেখে সে হাসপাতালে।
সে জানায়, গতকাল স্কুল ছুটির আগে তার বোনও একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।
আরেক শিক্ষার্থী সানজিদা খাতুন জানায়, প্রথমে তার সহপাঠী জাকিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে মাথায় তেল ও পানি দিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করে। পরে কমনরুমে তার জুতা আনতে গেলে একটা গন্ধ আসতেই মাথা ঘুড়ে সেও অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিক্ষার্থী জাকিয়ার মা জলি খাতুন জানান, বিদ্যালয় থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয় তার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে, দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। পরে দ্রুত এসে মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি।
এমন ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে অভিভাবকদের মাঝে। এ ঘটনা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন মনে করেন অভিভাবক জলি খাতুন।
শিক্ষার্থীদের এভাবে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার নির্দিষ্ট কোনো কারণ বলতে পারছেন না কাজিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন তিনি।
কারণ জানতে চাইলে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা নিলা বলেন, ভ্যাপসা গরমের কারণে এমনটি হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিক সঠিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তিন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে, বাকীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোরশেদুল ইসলাম বলেন, বিষয় শুনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।