রংপুর অফিস
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৫ ২২:২০ পিএম
আপডেট : ১৮ মে ২০২৫ ২২:২৬ পিএম
রংপুর সিটি করপোরেশনে হোল্ডিং ট্যাক্স ছাড়া মিলছে না কোনো সেবা। সেবা নিতে হলে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধিত রশিদের কপি নেওয়ায় বিপাকে পড়েছে সেবা প্রার্থীরা। সেবা না পেয়ে রবিবার (১৮ মে) বিকেল ৩ টায় বিক্ষুদ্ধ সেবাপ্রার্থীরা নগরভবনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে এক ঘণ্টা পর বিক্ষোভ থেকে সরে দাঁড়ান সেবা প্রার্থীরা।
সেবা প্রার্থীদের অভিযোগ, নগরীতে এক লাখ বাড়ির মালিক হলেও পাঁচ লাখ ভাড়াটিয়া থাকেন। টিকাদান, জন্মসদন, ট্রেড লাইসেন্স, ওয়ারিশান সদন, নাগরিত্বসহ সিটি কর্পোরেশনের সব সেবা পেতে নির্দিষ্ট মূল্য দিলেই পাওয়া যেত। কিন্তু হঠাৎ করে হোল্ডিং ট্যাক্স ও উৎসকর পরিশোধ ছাড়া কোনো সেবা পাচ্ছেন না তারা। এমনকি বর্ধিত এলাকার হোল্ডিং না থাকলেও তাদের কাছে হোল্ডিং ট্যাক্স চাওয়া হচ্ছে। এতে হয়রানির ও ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
নগরীর কামাল কাছনার ব্যবসায়ী অনিমেশ চন্দ্র কর বলেন, ‘আমি শহরে ব্যবসায় করি। গুপ্তপাড়ায় ভাড়া থাকি। এখানে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে এসেছি। কিন্তু হোল্ডিং ট্যাক্স ছাড়া তারা নবায়ন করছে না। আমার যেখানে ঘর নেই, ভাড়া থাকি। সেখানে কোথায় থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স দিব।’
আলমনগর এলাকার বাসিন্দা লিটন মিয়া বলেন, ‘জন্ম নিবন্ধন করাতে এখন দুই হাজার টাকা উৎসকর দিতে হচ্ছে। বস্তিতে থাকি ভাত খেতে পারি না। এতো টাকা কিভাবে দিব। এখানে সেবার নামে হরিলুট চলছে। আগে তো এমন ছিল না।’
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা বলেন, ‘শুধু রংপুর নয়, সব সিটি করপোরেশনে এটা আছে। সব সেবার সাথে ট্যাক্স আদায় বাধ্যতামূলক। কারও যদি আপত্তি থাকে সেটা আমরা শুনছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা ভাড়াটিয়া, যাদের হোল্ডিং নেই। তাদেরকে বুঝিয়ে, কিভাবে বিকল্পভাবে সেবা দেওয়া যায় সেটা আমরা করছি। একটা ইস্যুতে যে কর্মঘণ্টা নষ্ট হলো, এটা ক্ষতি ছাড়া ভালো কিছু বয়ে আনেনি।’