রামু (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৫ ১৬:৩৩ পিএম
কক্সবাজার জেলার দক্ষিণ ও উত্তর বন বিভাগের অধিকাংশ বনভূমির চারপাশজুড়ে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ করাতকল। সেখানে নির্বিচারে চেরাই হচ্ছে বনের কাঠ। এসব করাতকলের লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকলেও প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে চলছে তাদের কর্মযজ্ঞ।
স্থানীয়দের অভিযোগ অধিকাংশই করাতকলই গড়ে উঠেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায়। তবে বরাবরের মতো কর্তৃপক্ষের দাবি দ্রুত উপজেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের করাতকল লাইসেন্স বিধিমালা অনুযায়ী সংরক্ষিত বনভূমির সীমানা থেকে কমপক্ষে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো করাতকল স্থাপন করা যাবে না। কিন্তু এই বিধান অমান্য করে কিছু অসাধু কাঠ ব্যবসায়ী বনের গাছের সহজলভ্যতায় সংরক্ষিত বনভূমির আশপাশে অবৈধ করাতকল স্থাপন করে অবাধে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও আবার করাতকল বসায় অসাধু ব্যবসায়ীরা।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, শুধু রামু উপজেলার ৫০ কিলোমিটারের মধ্যেই গড়ে উঠেছে ৪০ থেকে ৫০টির বেশি অবৈধ করাতকল। এসব করাতকলের অধিকাংশই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে চলছে। উপজেলার ফতেখাঁরকুল, রাজারকুল, কাউয়ারখোপ, জোয়ারিয়ানালা, খুনিয়াপালং, মিঠাছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এসব করাতকলে প্রতিদিন চেরাই হচ্ছে মেহগনি, সেগুন, গোদা, জারুল, লালমনিসহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান কাঠ। করাতকলগুলোতে চেরা মোট কাঠের প্রায় ৬০ শতাংশ কক্সবাজারের দক্ষিণ ও উত্তর বন বিভাগের সংরক্ষিত বনভূমির।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রামুর এক করাতকল মালিক বলেন, করাতকল চালাতে প্রতি মাসে সংশ্লিষ্ট ফরেস্ট অফিস, প্রশাসন থেকে শুরু করে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও টাকা দিতে হয়। আবার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলেও লাইসেন্স মেলে না।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রামু উপজেলা সভাপতি মাস্টার মোহাম্মদ আলম বলেন, বনভূমি যা দরকার তার তুলনা অর্ধেক-ই নাই। কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে অবৈধ করাতকলে বনভূমি নিধন করা হচ্ছে। অতি দ্রুত এই অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ করা এখন সময়ের দাবি।
রাজারকুল রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. অভিউজ্জামান বলেন, এখানে বেশিরভাগ অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা আছে। উপজেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, অতিদ্রুত উপজেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
বাঁকখালী রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আল আমিন বলেন, এই অবৈধ করাতকলের বিষয়ে ডিভিশন অফিস থেকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে অতিদ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন বলেন, একবার উচ্ছেদ করলে আবার করাতকল বসায় অসাধু ব্যবসায়ীরা। আমরা ম্যাজিস্ট্রেট পেলেই অবৈধ করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালাব।
লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক জায়গায় চাহিদা থাকলেও আইনি জটিলতায় করাতকল লাইসেন্স দেওয়া যায় না।