সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৫ ২১:৪০ পিএম
আপডেট : ১৭ মে ২০২৫ ২১:৫৪ পিএম
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন পুশ করায় পর পর দুই নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার ও শনিবার (১৭ মে) সিঙ্গাইর বাসস্ট্যান্ড এলাকার সিঙ্গাইর ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া নবজাতকদের পরিবারের অভিযোগ, ‘টেজিড’ নামে ২৫০ মিলিলিটার মেয়াদোত্তীর্ণ একটি ইনজেকশন নবজাতকদের শরীরে পুশ করায় তারা মারা যায়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
জানা গেছে, গত শুক্রবার মধ্য সিঙ্গাইর এলাকার মাজেদুল ইসলামের স্ত্রী এবং শায়েস্তা ইউনিয়নের চর লক্ষ্মীপুর এলাকার ফিরোজের স্ত্রী প্রসব ব্যথা নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে উভয়েই পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। তবে নবজাতকদের জন্মের পরপরই টেজিড নামের একটি মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন পুশ করা হয়, যার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একজন ঢাকার শিশু হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করে। অপরজন ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে মারা যায়।
মো. ফিরোজ নামে নবজাতকের বাবা বলেন, শুক্রবার ডাক্তার শামিমা রহমান আমার স্ত্রীর অস্ত্রোপচার করেন। জন্মের পর আমার সন্তান সুস্থ ছিল। শনিবার সকালে নার্স একটি মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন দেয়। এক ঘণ্টার মধ্যে আমার সন্তান মারা যায়।
অন্য নবজাতকের বাবা মাজেদুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলেও জন্মের পর সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। আমাদের সামনেই নার্স ইনজেকশন পুশ করে। ইনজেকশন দেওয়ার পর তার হার্টবিট কমে যায় এবং ঢাকা শিশু হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এটি দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
সিঙ্গাইর ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মিজানুর রহমান লিটন বলেন, এটি একটি দুর্ঘটনা। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাফছান রেজা বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। অতিদ্রুত ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে.ও.এম তৌফিক আজম বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশনে নবজাতকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। হাসপাতালটিতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।