গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৫ ২১:৫৩ পিএম
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের পিংলাকাঠি বন্দর সংলগ্ন সরকারি খাল দখল করে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী বহুতলবিশিষ্ট পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ভূমি অফিস একাধিকবার অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিলেও সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে চলছে নির্মাণকাজ।
সরেজমিন গিয়ে স্থানীয় লোকজন, বন্দরের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের পিংলাকাঠি বন্দর হতে নলচিড়া ইউনিয়ন পরিষদ হয়ে কলাবাড়িয়া পর্যন্ত খালের পিংলাকাঠি বন্দর সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পিংলাকাঠি গ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও বিএনপি সমর্থক মো. কামাল উদ্দিন, গৌরনদী হোসনাবাদ নিজাম উদ্দিন ডিগ্রি করেজের সহকারী অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন ও বোরাদি গরঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিনসহ সাত ব্যক্তি গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে সরকারি খাল দখল করে বহুতল পাকা ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেন।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি খালে অবৈধ ভবন নির্মাণ শুরু করলে এলাকাবাসী বাধা দিলে দখলদার প্রভাবশালীরা তাদের নানান ভয়ভীতি, হুমকি দেন। পরবর্তীতে তারা নলচিড়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
নলচিড়া ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. আব্বাস আলী জানান, স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে তাদের অনুমতি সাপেক্ষে ভূমি পরিমাপ করা হয়। এতে দেখা যায়, দখলদার কামাল হোসেন গংরা যে বহুতলবিশিষ্ট ভবন কাজ শুরু করেন তার পেছনে সরকারি খালের জায়গা রয়েছে ৪ ফুট এবং ভবনের সামনের দিকে সরকারি রাস্তার জায়গা দখল করেছে ৪ ফুট। ওই সময় গৌরনদী উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. সিরাজুল ইসলাম ও নলচিড়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মনিন্দ্র নাথ লিখিতভাবে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পরে বিষয়টি গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অবহিত করা হলে তিনি অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। কিছুদিন নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার পরে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করেছে অবৈধ দখলদাররা।
বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, এই খাল দিয়ে ঐতিহ্যবাহী পিংলাকাঠি বন্দর, নলচিড়া বাজার ও কলাবাড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা নৌপথে মালামাল পরিবহন করে থাকে। খালটি অবৈধ দখলের ফলে খাল সংকুচিত হয়ে নৌ-যাতাযাতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত্র হচ্ছে।
খাল দখলের অভিযোগ সম্পর্কে অস্বীকার করে কামাল হোসেন বলেন, আমি নিজস্ব জমিতে স্থাপনা নির্মাণকাজ করছি।
নলচিড়া ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. আব্বাস আলী বলেন, সরকারি খাল ও রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ করছে। একাধিকবার নির্মাণকাজে বাধা দেওয়া সত্বেও বাধা উপেক্ষা করে ওই ব্যক্তিরা খাল দখল করে নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন বলেন, সরকারী স্বার্থ রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারি খাল দখল করে কাউকে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। দখলদার যত শক্তিশালী বা প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।