সাতক্ষীরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৫ ১৯:৩৩ পিএম
তাপপ্রবাহের সংকট দেখিয়ে আমচাষিদের চাপের মুখে জেলা প্রশাসনের জরুরি সভায় সাতক্ষীরার হিমসাগর আম সংগ্রহের ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৫ মে) থেকে গাছ থেকে সংগ্রহ করা শুরু হয়েছে সুস্বাদু হিমসাগর আম।
গত বুধবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসনের এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আগের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ২০ মে থেকে হিমসাগর ও ২৫ মে ল্যাংড়া আম পাড়ার কথা ছিল।
কিন্তু প্রচণ্ড তাপদাহে সাতক্ষীরার হিমসাগর আম অগ্রিম পাকা শুরু করে। পাকা আম না পাড়ায় গাছ থেকে ঝরা শুরু করলে বাধ্য হয়ে চাষিরা জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি উপেক্ষা করে আম পেড়ে বাজারে ওঠাতে শুরু করেন।
তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের আম সংগ্রহের নির্দেশনা ২০ মের আগেই গাছে আম পরিপক্ব হয়ে ঝরে পড়ছে। সেজন্য বাধ্য হয়ে বাজারে আম তুলছেন তারা। এছাড়া চাহিদানুযায়ী দাম না পাওয়ারও অভিযোগ করেছেন চাষিরা।
বুধবার রাতে শহরের সুলতানপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, হিমসাগর আমে বাজার সয়লাব। প্রতি মণ হিমসাগর বিক্রি হচ্ছে ২০০০ থেকে ২২০০ টাকায়। তবে চাষিরা অভিযোগ করে জানান, এই আম কয়েকদিন আগে বাজারে তুলতে পারলে ৩২০০ থেকে ৩৫০০ টাকায় প্রতি মণ বিক্রি হতো।
ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে জেলা প্রশাসন হিমসাগর আম পাড়ার সূচিতে পরিবর্তন আনে।
তবে এর মধ্যেও একশ্রেণির অসাধু মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীর চাপে প্রশাসনকে বাধ্য করা হয়েছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বললেন, হিমসাগর পেকে যাচ্ছে বলে যে রব ওঠানো হচ্ছে, সেটি আসলে সত্য নয়। কারণ একসময়ে সব গাছের আম পাকে না। তারপরও সবার চাপে আম ক্যালেন্ডার পরিবর্তন করা হলো।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য নিরাপদ আম ভোক্তার কাছে নিশ্চিত করা। আম ক্যালেন্ডার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু কাঁচা আম কৃত্রিম উপায়ে পাকিয়ে বিক্রির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।