× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ছয় কোটির টাকার ওয়াকওয়ে নির্মাণের আড়াই মাসে ভাঙন

মধ্যাঞ্চলীয় ব্যুরো

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১৫:১৩ পিএম

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১৫:৪১ পিএম

নরসুন্দা নদীর পাড় ঘেঁষে নির্মিত ওয়াকওয়ে। ছবি : প্রবা

নরসুন্দা নদীর পাড় ঘেঁষে নির্মিত ওয়াকওয়ে। ছবি : প্রবা

কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী। নদীর শোভাবর্ধন ও খননের জন্য ২০১৪ সালে ১২০ কোটি টাকার প্রকল্প নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রকল্পের অধীন ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর পাড় ঘেঁষে নির্মাণ করা হয় সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াকওয়ে বা হাঁটার রাস্তা।

২০১৬ সালের শেষে ওয়াকওয়ে নির্মাণ শেষ হয়। নির্মাণের মাত্র আড়াই মাস পরেই শহরের বটতলায় কিছু অংশে ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙতে ভাঙতে বর্তমানে ওয়াকওয়ের এক তৃতীয়াংশ ভেঙে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর জানায়, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী খনন ও শোভাবর্ধনের জন্য ২০১৪ সালে ১২০ কোটি টাকায় একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পের অধীন ছয় কোটি টাকা নির্মাণ ব্যয় ধরে নরসুন্দা নদীর পাড় ঘেঁষে সাড়ে ছয় কিলোমিটার ওয়াকওয়ে (হাঁটার পথ) তৈরি করা হয়। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজ ও মাটি কমপ্যাক্ট  না করায় ওয়াকওয়ের এমন অবস্থা হয়েছে। এ নিয়ে জেলাবাসী একাধিকবার বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। আন্দোলনের মুখে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের জামানতের টাকা আটকে দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্দেশে পাগলা মসজিদ সড়কে এবং বটতলার কিছু অংশ ওয়াকওয়ে পুণঃনির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয়রা বলছেন, নরসুন্দা ওয়াকওয়েটি তাদের নিরাপদ হাঁটার সড়ক। ওয়াকওয়েতে ছিল না কোনো যানবাহন চলাচল। হাঁটার সময় সহজেই তারা স্বচ্ছ অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারতেন। কোনো বায়ূ দূষণ ছিল না। কিন্তু সিরামিক ইট দিয়ে তৈরি ওয়াকওয়ে ভেঙে পড়ায় সকাল কিংবা বিকেলে অবসরে হাঁটাচলায় বেড়েছে দুর্ভোগে। এ জন্য ওয়াকওয়ে পুণঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ বলেন, ‘ওয়াকওয়ে দিয়ে শহরের মধ্যবয়স্ক অনেকে প্রতিদিন সকাল-বিকেল কিছু সময় হাঁটতেন। সময় কাটাতেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীরা। এটি ভেঙে যাওয়ায় তাদের বেশি সমস্যা হচ্ছে।’

তাছাড়া নরসুন্দা খনন ও শোভাবর্ধন প্রকল্প শেষে তা পৌরসভাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ মেয়রের। তিনি বলেন, ‘নরসুন্দা প্রকল্প পৌরসভাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তাই এ নিয়ে আমাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পৌরবাসীর চাহিদার বিষয়টি আমার নজরে রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানানো হবে।’

ওয়াকওয়ের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন কিশোরগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা মঞ্চের সভাপতি অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ সাদী। তিনি বলেন, ‘ওয়াকওয়ের এক তৃতীয়াংশ ভেঙে গেছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’

প্রকল্পের কাজ অনেক আগে শেষ হয়ে যাওয়ায় সার্বিক বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি কিশোরগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পে কাজ অনেক আগে শেষ হয়েছে। আমি এখানে কিছুদিন হলো যোগ দিয়েছি। সার্বিক বিষয়ে বলা সম্ভব না।’

শহরবাসীর হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে সবচেয়ে উত্তম স্থান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়াকওয়ের বর্তমান পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না তা দেখব।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা