× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মসজিদের ছাদে ছায়াঘেরা আঙ্গুর বাগান

ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৫ ১৬:৫৬ পিএম

মসজিদের ছাদে ছায়াঘেরা আঙ্গুর বাগান

গ্রামের মসজিদের ছাদে বাঁশের তৈরি মাচাজুড়ে লতানো আঙ্গুর গাছ। গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলে রয়েছে সবুজ রঙের থোকা থোকা আঙ্গুর ফল। শুধু আঙ্গুর ফলই নয়, ওই ছাদে রয়েছে কয়েকটি কমলা, মাল্টা গাছও। মসজিদের ছাদে বড় প্লাস্টিকের কন্টেইনার ও বড় বালতিতে রোপণকৃত ফলদ এ ছাদবাগানটি দেখলে যে কারও মন ভরে যায়।

ইউটিউব দেখে এমন ছাদ বাগান তৈরি করে এখন জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৪ নম্বর সিন্দুরখান ইউনিয়নের দিঘিরপাড়ের বাসিন্দা সৈয়দুর রহমান তরফদার ফারুক। তিনি তার বাড়ির পাশে সাড়ে তিন শতাংশ জমির ওপর নির্মিত দিঘিরপাড় বাইতুর রহমান জামে মসজিদের ছাদে গড়ে তুলেছেন এই মনোমুগ্ধকর ছাদবাগান। শুধু মসজিদের ছাদেই নয়, কয়েক জাতের আঙ্গুর, কমলা, মাল্টাসহ নানা জাতের ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন নিজ বাড়ির আঙিনায়ও। তার তৈরিকৃত মসজিদের ছাদ বাগান ও বাড়ির আঙিনার ফলদ বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করেন মানুষজন।

ফারুক জানান, তিনি একজন ব্যবসায়ী ও কৃষক। ইউটিউবে আঙ্গুর চাষের কিছু ভিডিও দেখে এ ফলটি চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে যশোর থেকে ৩০০ টাকা দরে ৪০টি চয়ন জাতের আঙ্গুর চারা কিনে আনেন। এর মধ্যে ২০টি নিজ বাড়িতে ও ২০টি মসজিদের ছাদে রোপণ করেন। প্রথম বছর ফলন না হলেও, দ্বিতীয় বছর মসজিদের ছাদে ১৬টি গাছে ভালো ফল ধরেছে। এবার প্রায় ৭০০টি আঙ্গুর চারা উৎপাদন করেছেন, যা বিক্রি করে দুই লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন। মসজিদে উৎপন্ন আঙ্গুর ফলের দুই-তৃতীয়াংশ মসজিদের উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে, বাকি এক-তৃতীয়াংশ বিতরণ করা হবে স্থানীয়দের মধ্যে।

ফারুকের এই ছাদবাগান দেখতে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের ভিড় জমে। শুধু মসজিদের ছাদ নয়, ফারুক নিজ বাড়ির আঙিনাতেও বিভিন্ন ফলের গাছ রোপণ করেছেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও তার এই উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন।

সিন্দুরখান ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘আমি নিয়মিত ফারুকের ছাদবাগান পরিদর্শন করি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকি।’ 

আঙ্গুর একটি পুষ্টিকর ও জনপ্রিয় ফল, যা রোগীর পথ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এতে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, পটাশিয়ামসহ নানা পুষ্টি উপাদান। ১০০ গ্রাম আঙ্গুর থেকে প্রায় ৪৫০ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। এই ফল চাষে কীটনাশকের ব্যবহার খুব কম এবং জৈব পদ্ধতিতেই চাষ সম্ভব।

ফারুকের সফল ছাদবাগান এখন অনেককেই অনুপ্রাণিত করছে। কৃষি বিভাগের নিয়মিত সহায়তা আর নিজ উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই ছাদবাগান হয়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যায়ে ফল চাষে এক নতুন দৃষ্টান্ত।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দেশের উদ্ভাবিত আঙ্গুরের নিজস্ব কোনো জাত নেই। আমাদের দেশে আঙ্গুরের ফলন আশানুরূপ হলেও তার মিষ্টতা আমদানি করা আঙ্গুরের থেকে কিছুটা কম। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আঙ্গুর চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রত্যাশা করছি গবেষণার মাধ্যমে দেশের আবহাওয়ার উপযোগী জাত উদ্ভাবন ও অবমুক্ত করতে পারলে দেশের ফলের বাজারে আঙ্গুর ফল বাজিমাত করবে। শ্রীমঙ্গলে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর ফল চাষ সফল হতে পারে, তার প্রমাণ সৈয়দুর রহমান তরফদারের বাগান।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা