× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নাক চেপে চলতে হয় এ সড়কে

আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৫ ১৬:৩২ পিএম

আপডেট : ১৫ মে ২০২৫ ১৬:৩৪ পিএম

নাক চেপে চলতে হয় এ সড়কে

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে আমতলীর উতশিতলা নামক এলাকায় খোলা স্থানে পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে। পচা দুর্গন্ধে এলাকা পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। সড়কের চলাচলকারী মানুষকে নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত এ ভাগাড় সরিয়ে নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।

জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে ২৩ আগস্ট আমতলী পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। গত ২৭ বছরে আমতলী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ডাম্পিংস্টেশন নির্মাণ করতে পারেনি। ওই সময় থেকে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ শহরের বিভিন্ন স্থানে ও নদীতে ময়লা ফেলে আসছে। এতে শহরের পরিবেশ দূষিত হওয়ায় গত তিন মাস ধরে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলীর উতশিতলা নামক স্থানে ময়লা ফেলা শুরু করে। এতে ওই ময়লা ফেলার স্থানটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। খোলা স্থানে ময়লা ফেলায় এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় মানুষকে নাক চেপে ধরে চলাচল করতে হচ্ছে। এ মহাসড়কে প্রতিদিন অন্তত কয়েক হাজার যানবাহনে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ চলাচল করে। এ ছাড়া ওই ভাগাড়ের চারিদিকে গ্রামাঞ্চল থাকায় গ্রামের বাসিন্দা ও যানবাহনে চলাচলকারী মানুষ দূষিত পরিবেশে জীবনযাপন করছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মহাসড়কের পাশে খোলা স্থানে ময়লা ফেলায় বসবাস করা খুবই কষ্টকর। 

বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, মূল সড়ক ও ময়লার ভাগাড়টি একাকার হয়ে আছে। মানুষ এ পথে নাক চেপে চলাচল করছেন। দুর্গন্ধে গাড়ির জানালা ও দরজা বন্ধ রাখা হচ্ছে, তারপরও গাড়ির যাত্রীরা নাক চেপে চলাচল করছে। এ ছাড়া পৌর শহরের ওয়াবদা এলাকা ও টিএনটি রোডেও ময়লা ফেলে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা লিটন গাজী ও রাসেল মৃধা বলেন, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় স্থাপনে আমরা খুবই কষ্টে আছি। ময়লার দুর্গন্ধে বাড়িতে বসবাস করা খুবই কঠিন। দ্রুত এ ভাগাড়টি সরিয়ে না নেওয়া হলে পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে যাব। 

এ পথে চলাচলকারী বাসযাত্রী জিয়া উদ্দিন জুয়েল বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হয়েও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত সড়কের পাশ থেকে ময়লার ভাগাড়টি সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

আমতলী পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম জাকির মৃধা বলেন, ময়লার আধুনিক বর্জ ব্যবস্থাপনা ডাম্পিংস্টেশন না থাকায় ময়লা মহাসড়কের পাশে রাখা হচ্ছে। প্রতিদিন দুর্গন্ধ রোধে ওই ময়লায় ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হয়। 

আমতলী পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ময়লা ফেললে দুর্গন্ধতো ছড়াবেই। ময়লা আগে নদীতে ময়লা ফেলা হতো, এখন মহাসড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে। ময়লার ফেলার ডাম্পিংস্টেশন নির্মাণ করতে হলে অন্তত ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার প্রয়োজন। ওই পরিমাণ টাকা পৌরসভায় বরাদ্দ নেই। ফলে ডাম্পিংস্টেশন করতে পারছি না। অর্থ সংকুলান হলে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ডাম্পিংস্টেশন করা হবে।

পরিবেশ কর্মী মো. হাইরাজ মাঝি বলেন, পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় এটা অত্যান্ত খারাপ। ওই সড়কে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহনে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ চলাচল করে। সব মানুষকেই পচা দুর্গন্ধ বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। পচা দুর্গন্ধ বাতাসের সঙ্গে মিশে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে মানুষ বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে বায়ুবাহিত রোগজীবানু ছড়াতে পারে। ওই স্থানে মশা-মাছি বংশ বিস্তার করে। ফলে মানুষের সংক্রামণ রোগ হতে পারে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, ময়লার ভাগাড়টি সরানোর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা