সুবল বড়ুয়া ও আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৫ ১২:১৪ পিএম
আপডেট : ১৬ মে ২০২৫ ১৬:২৩ পিএম
বিশ্বের সেরা বন্দর ব্যবস্থাপকদের হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-৫ প্রাঙ্গণে বন্দর ও জাহাজ চলাচল খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও বাণিজ্য সংস্থার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।
গতকাল সকালে রাজধানী থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেই তিনি দেশের অর্থনীতির প্রাণ খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম পরিদর্শনে যান। সেখানে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার কাজ দ্রুত করার তাগিদ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আর কিছু শুনতে চাই না, বন্দর ব্যবস্থাপনায় পৃথিবীর সেরা যারা; তাদের হাতে ছেড়ে দিতে হবে, যেভাবেই হোক। মানুষ রাজি না থাকলে রাজি করাতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘দুনিয়ার সব জিনিস এত দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে, আমাদের এখানে এটা (চট্টগ্রাম বন্দর) পাল্টায় না কেন? এটা আজকের প্রশ্ন না। একজন চট্টগ্রামবাসী হিসেবে এই পথে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে দেখা হয়, বিশেষ করে যখন গাড়ি চলে না, আটকে যায়, কী হলো ট্রাকে ভর্তি রাস্তা, মাল খালাস করতে পারছে না। এদিকে, প্লেন মিস করে ফেলব কি নাÑ এই দুর্ভাবনা। কাজেই এটা সম্পর্কে চিন্তা না করে উপায় নেই। কথাবার্তা বলেছি, মাঝে মাঝে লেখালেখি করেছি। তো এবার যখন সুযোগ পেয়েছি, প্রথম দিন থেকেই চেষ্টা করছি এটার দিকে নজর দেওয়ার, কীভাবে এটাকে পরিবর্তন করা যায়।’
ড. ইউনূস বলেন, ‘লুৎফে সিদ্দিকীকে (বিশেষ সহকারী) দায়িত্ব দিলাম, এটা তোমার দায়িত্ব, যেমনে পার মেরে-ধরে এটাকে সোজা করতে হবে। এটাকে সত্যিকার বন্দর হিসেবে তৈরি করতে হবে। আমরা খুবই ইমপ্রেসড, যেগুলো ছবি এখানে দেখাল, ভালো লাগে, গর্ব লাগে। কিন্তু দুনিয়া তো এখানে আটকে নেই। দুনিয়া এর থেকে বহুদূর চলে গেছে। স্ক্রিনে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর এবং বর্তমানে বিশ্বের বন্দর পাশাপাশি দেখালে তাহলে বোঝা যেত আমরা কোথায় পড়ে আছি। আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এই পিছিয়ে থাকা নিয়ে কারও মধ্যে কোনো দুঃখও দেখি না। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া করে। এখানে গোলমাল, ওখানে গোলমাল। কিন্তু সার্বিকভাবে যে বিরাট পরিবর্তন দরকার, এটার গরজ কারও খুব আছে বলে মনে হয় না। তো, সেজন্যই ঠেলাঠেলি করছিলাম, বারবার লুৎফেকে পাঠাচ্ছিলাম।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমি এখানে আসার আগে আবার পাঠালাম আশিককে (বিডা চেয়ারম্যান), যাও, ব্যাখা কর সবার কাছে আমরা কী করতে চাচ্ছি, কেন চাচ্ছি। সেও চেষ্টা করল। আমার এ চিন্তাটার কারণটা হলোÑ বাংলাদেশের অর্থনীতি যদি পাল্টাতে হয় এবং আমাদের পাল্টাতে হবে। তাহলে চট্টগ্রাম বন্দর হলো ভরসা। এটাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন কোনো পাতায়, নতুন কোনো অধ্যায়ে প্রবেশের সুযোগ নেই। এর পথ খুলে দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির পথ খোলা। এর পথ না খুললে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে যতই লাফালাফি, যতই চাপাচাপি করি, কোনো লাভ হবে না।’
চট্টগ্রাম বন্দরকে বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড উল্লেখ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘নেপাল, ভুটান, সেভেন সিস্টার্স যদি এটার সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে তারাও লাভবান হবে, আমরাও লাভবান হব।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাঝে মাঝে প্রশ্ন শুনি যে, বিদেশিকে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আপনারা ইন্ডিয়াতে স্বাস্থ্যের জন্য যান না? দলে দলে যান, যখন বন্ধ করে দিয়েছে তখন বলছেন কেন যেতে দিচ্ছে না? কাগজ উল্টালেই দেখা যায়, নেতারা চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাচ্ছে, ব্যাংককে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছে। কিন্তু বন্দরের কথা যখন আসে, না না এখানে কেউ আসতে পারবে না। ভাই, আমাদের চিকিৎসা দরকার তো। এ হৃদপিণ্ডের চিকিৎসা দরকার।’
বন্দর পরিচালনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করলে দেশের লাভ হবে মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাদের লাভ, কারণ এর পেছনে আমাদের কোনো টাকাপয়সা খরচ লাগবে না। বিল্ড, অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার। তোমরা বানাও, তোমরা কাজ কর, রোজগার কর, এই মেয়াদের মধ্যে আমাদের দিয়ে দিতে হবে। আমরা এক পয়সাও খরচ করব না। তখন আমাদের পয়সা বেঁচে গেল, কাজটা হয়ে গেল। তারা যখন কাজে নামবে, তারা দুনিয়াতে শত, শত পোর্ট পরিচালনা করে, ওরা হলো দুনিয়ার সেরা, যাদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি, তারা হলো দুনিয়ার সেরা, পৃথিবীর যেকোনো বন্দরে যান, তাদের মার্কা দেখবেন। সুতরাং তারা যখন দায়িত্ব নেবে, তারা আমাদের মতো করে পরিচালনা করবে না। তারা বিশ্বের বন্দর যেভাবে চালায়, সেভাবে চালাবে। কারণ এটা তাদের বন্দর, কারণ আমরা যখন লিজ দেব, তখন সেটা তাদের বন্দর, এটা থেকে তাদের টাকাটা ওঠাতে হবে, তারা তাদের সেই প্রযুক্তি দিয়ে বানাবে। তারা আগে যত বন্দর বানিয়েছে, টার্মিনাল বানিয়েছে, এরপর তাদের সর্বশেষ প্রযুক্তি, সর্বশেষ অভিজ্ঞতা এখানে আনবে।’
সভায় নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে বেশ কয়েকটি টার্মিনাল নির্মাণের ফলে কন্টেইনার জট কমবে। আমি আশা করি, ছয় মাসের মধ্যে আপনারা পরিবর্তনটি লক্ষ করবেন।’
চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ বৈদেশিক বাণিজ্য এবং তার ৯৮ শতাংশ নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল দিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রাকৃতিক কারণে ২০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারে না। এই কারণে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই আমাদের বন্দর আধুনিকায়নের বিকল্প নেই।’
কালুরঘাট রেল কাম সড়কসেতু নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
চট্টগ্রামের কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর বহুল প্রত্যাশিত রেলসহ সড়কসেতু নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের মতবিনিময় সভা শেষে নগরীর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে তিনি কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর বহুল প্রত্যাশিত রেল কাম সড়কসেতু নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ফলক উন্মোচন শেষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘কালুরঘাট ব্রিজে আমার অনেক স্মৃতি। এই সেতুর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক। আজ এখানে বোয়ালখালীর বাসিন্দাও উপস্থিত আছেন। কালুরঘাট সেতু তাদের বহুল আকাঙ্ক্ষিত। এটি তৈরি হয়ে গেলে চট্টগ্রামবাসীর বহু কষ্টের অবসান হবে।’
এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি কর্ণফুলী নদীর ওপর নতুন একটি কালুরঘাট সেতু নির্মাণ। এর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় বোয়ালখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসী উৎফুল্ল।’
তিনি বলেন, এখন যে সেতুটি আছে ১৯৩১ সালে সেটি নির্মাণ করা হয়েছিল। যদি এর মেয়াদকাল ৮০ বছরও ধরা হয়, তবে ২০১১ সালে এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।’
নতুন সেতুর কাজ ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করে ২০৩০ সালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
কালুরঘাট সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম প্রমুখ।
চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা ক্রমান্বয়ে শূন্যে নামিয়ে আনার নির্দেশনা
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন’ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভায় তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএসহ বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে জলাবদ্ধতা নিরসন বিষয়ে সর্বশেষ অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।
এরপর সামনের বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা আগের তুলনায় অর্ধেকে এবং ক্রমান্বয়ে শূন্যে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা অনেক রকম থিওরিটিক্যাল আলোচনা করেছি, সেসব আর করতে চাই না। আমরা চাই জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে চিরতরে বের হয়ে আসতে। কিন্তু সেটা একবারেই হবে না, তাই আমাদের ক্রমান্বয়ে অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই বছর যেহেতু বর্ষা মৌসুম ইতোমধ্যে এসে গেছে, তাই এবার সমস্যা পুরোপুরি সমাধান সম্ভব হবে না। কিন্তু গত কয়েক মাসে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে যেই প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তাতে যদি এ বছর আশানুরূপ ফল না আসে তাহলে তো সবকিছু মনে হবে জলে গেল।’
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন হচ্ছে একটি প্রতীকী সমস্যা এবং খুবই জটিল সমস্যা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই সমস্যা নিরসনের মাধ্যমে অন্যান্য শহর ও জেলা উৎসাহিত হবে। তাই চট্টগ্রামকে এই কাজে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে হবে। চট্টগ্রাম শহরের যেই সক্ষমতা রয়েছে অন্য অনেক অনেক শহরের সেই সক্ষমতা নেই। তাই চট্টগ্রামের সকল প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় হতে হবে এবং নাগরিক সমাজকে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে।’
চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের জন্য জমি বরাদ্দের দলিল হস্তান্তর
চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের জন্য জমি বরাদ্দের দলিল হস্তান্তর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে এক আয়োজনে তিনি হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের ২৩ একর জমির নিবন্ধিত দলিল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুস সালামের কাছে হস্তান্তর করেন।
এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামবাসীর আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি পূরণ হতে চলেছে। চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালটি পাহাড়তলী থানাধীন দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় নির্মিত হবে। এ সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমও উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী-কর্ণফুলীতে দুটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা
চট্টগ্রামে হাটহাজারী ও কর্ণফুলী এলাকায় আলাদা দুটি হাসপাতাল নির্মাণ পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম। এ ছাড়া কালুরঘাট এলাকায় একটি ডেন্টাল কলেজ ও ডেন্টাল হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনাও আছে বলে জানান তিনি।
গতকাল বুধবার সকালে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং অক্সিজেন-হাটহাজারী মহাসড়কের উন্নয়ন’ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সভায় নগরীর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর রোগীর ব্যাপক চাপ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা জানান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম বলেন, ‘আমি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছি। আমি দেখেছি ধারণক্ষমতা দুই হাজার কিন্তু প্রায় পাঁচ হাজার রোগী। ব্রেন সার্জারির রোগীকে ফ্লোরে শুইয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়, টয়লেটের পাশেও রোগী ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নেয়। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাটহাজারী ও কর্ণফুলী এলাকায় দুটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে। এতে করে রাঙামাটি-কাপ্তাই ওদিকের অঞ্চলের রোগীরা হাটহাজারী হাসপাতালে সেবা নিতে পারবেন এবং পটিয়া-সাতকানিয়া-চন্দনাইশ অঞ্চলের রোগীরা কর্ণফুলী হাসপাতালে সেবা নিতে পারবেন। চট্টগ্রামে কোনো ডেন্টাল কলেজ ও ডেন্টাল হাসপাতাল নেই। একটি ডেন্টাল কলেজ-হাসপাতাল নির্মাণের জন্যও পরিকল্পনা চলছে।’