× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অপরিপক্ব মৌসুমি ফলে মেশানো হয় বিষ

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৫ ১২:০৫ পিএম

আপডেট : ১৫ মে ২০২৫ ১২:২৭ পিএম

অপরিপক্ব মৌসুমি ফলে মেশানো হয় বিষ

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের আসতে শুরু করেছে আম, লিচু, কাঁঠালসহ বিভিন্ন জাতের ফল। কোনোটার রঙ গাঢ় হলুদ, কোনোটা আবার টকটকে লাল। বিক্রির জন্য ফলগুলোকে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বাজারের দোকানে দোকানে। এই ফল দেখে আকৃষ্ট হয়ে ক্রেতারা প্রতিদিন কিনে বাড়ি ফিরছেন হাসিমুখে। কিন্তু কাটার পর মুখে দিতেই বোঝা যায় রসালো ফলটি অপরিপক্ক, কৃত্রিমভাবে পাকানো। শুধু আম নয়, মৌসুমি প্রায় সব অপরিপক্ক ফলই এখন বিষে ভরা। আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপেসহ বেশিরভাগ ফলেই মেশানো হচ্ছে কেমিক্যাল। বিশেষ করে বাজারে আসতে শুরু করা সাতক্ষীরার আম হিমসাগর ও গোবিন্দভোগ আম কার্বাইড মিশিয়ে পাকানো হচ্ছে। খাওয়ার উপযোগী না হলেও দৃষ্টিনন্দন রঙের মোহে প্রতিদিন ক্রেতারা যেন বিষ কিনে নিয়ে যান প্রিয়জনের জন্য।

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের সবচেয়ে বড় ফলের আড়ত স্টেশন এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, রঙ-বেরঙের ফল দেখে মনে হয় এ এক ফলের রাজ্য। দোকানের টুকরিতে সাজানো টসটসে লাল রঙের আম ধরলেই হাতে উঠে আসে সাদা রংয়ের পাউডার। রাইপেন নামের কেমিক্যালসহ বিভিন্ন প্রকার কেমিক্যাল দিয়ে প্লাস্টিকের ঝুড়িতে টনকে টন আম সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। এই আম প্রতিদিন জেলার ১৩টি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে চলে যাচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকানোর কাজটি এমন কৌশলে করেন যেন ক্রেতারা বুঝতে না পারেন। রাসায়নিক মেশানোর পর একদিনের মধ্যে ফল পেকে যায়।

স্টেশন এলাকার সবচেয়ে বড় ফলের আড়ত সোহান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বাবুল মিয়া জানান, স্বাভাবিকভাবে ফল পাকতে দিলে বিক্রির জন্য অপেক্ষমান সময়ে অর্ধেকের বেশি ফল নষ্ট হয়ে যায়। তাই কাঁচা অবস্থায় কিনে আনা ফল পাকানোর জন্য কৃত্রিম পদ্ধতি গ্রহণ করতে হয়।

মেসার্স সুমন এন্টারপ্রাইজের মালিক সুমন সাহা জানান, মৌসুমি ফল বাজারে এলে প্রথম দিকে দামটা একটু বেশি থাকে। এখন যে ফল বিক্রি করছি প্রায় সব আমে কেমিক্যাল মেশানো হয়। ক্রেতা ধরে রাখতে বাধ্য হয়ে এভাবে বিক্রি করতে হচ্ছে।

জেলা শহরের কাঁচারিবাজার আম বিক্রেতা রাসেল জানান, এই আমগুলো ১৫ দিন আগের কেনা, পাউডারগুলো দেওয়া হয়েছে আমে যেন পচন না ধরে এবং ফলের রঙ যেন ভালো থাকে। আর আড়ত থেকেই এই পাউডার দিয়ে দেয় আমরা কিছু দেই না।

পুরান থানা এলাকার ফল ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম জানান, অপরিপক্ব আমে আমরা কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করি না। পাকা আমই কিনে আনি আড়ত থেকে। ওইখানে কীভাবে আম পাকানো হয়, তা আড়ত ব্যবসায়ীরা বলতে পারবেন।

জেলা শহরের স্থানীয় বাসিন্দা ফয়জুল ইসলাম পিংকু বলেন, আমের স্বাদ ও লোভনীয় ঘ্রাণ মুগ্ধ করে সবাইকে। বাজারে ফলের দোকানে, রাস্তার ধারে হকারের ডালায় সাজানো থাকে আম। কিন্তু এই আম খেতে গেলেই মানুষের মনে একটা আতঙ্ক কাজ করেÑ ‘রাসায়নিকে পাকানো নয় তো!’ বাস্তবতা হচ্ছে, অধিক মুনাফার আশায় গাছ থেকে অপরিপক্ব আম পেড়ে কার্বাইড বা ওই জাতীয় রাসায়নিক প্রয়োগ করেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এতে আম পেকে সুন্দর রঙ ধারণ করলেও এই আম খেতে মোটেও সুস্বাদু নয়।

সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজের সাবেক পরিচালক ডা. হেলান উদ্দিন, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবিএম নাজমুল হুদাসহ চিকিৎসকরা জানান, আম পাকানোর জন্য ক্যালসিয়াম কার্বাইড ইনজেকশন দেওয়া হয়। আর্দ্রতার সংস্পর্শে এলে এটি অ্যাসিটিলিন নামক গ্যাস ছড়ায়। এতে আম দ্রুত পাকে। এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। ত্বকের জ্বালা, শ্বাসকষ্ট এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যাগুলো দেখা দেয়। আবার ফল ব্যবসায়ীরাও আম ও অন্যন্য ফল পাকাতে ‘ইথিলিন ট্রিটমেন্ট’ ব্যবহার করেন। এ সময় ফলকে ইথিলিন গ্যাসের সংস্পর্শে আনা হয়। আমের মাধ্যমে এসব রাসায়নিক উপাদান শরীরে গেলে ত্বকের ক্যানসার, কোলন ক্যানসার, জরায়ুর ক্যানসার, লিভার ও কিডনির সমস্যা, মস্তিষ্কের ক্ষতির মতো মারাত্মক রোগ হওয়র ঝুঁকি বাড়ে।

আশরাফুল ইসলাম পৌর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাদেকুর রহমান জানান, খালি চোখে সব আম দেখতে সুন্দর হলেও এতে অনেক সময় রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হয়Ñ এমন অভিযোগ উঠছে বহুদিন ধরেই। রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে তেমন স্বাদ থাকে না। সেই সঙ্গে রাসায়নিকের পাকা আম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খানকে একাধিকবার ফোন করলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা কেমিক্যাল দিয়ে ফল পাকাচ্ছেÑ বিষয়টি আপনার কাছ থেকে জানলাম। শিগগিরই প্রশাসন ও পুলিশ সদস্য নিয়ে অভিযান চালিয়ে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা